আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কেনাকাটা করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পর এক নার্সিং কর্মকর্তাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর লিভ-ইন সঙ্গীর বিরুদ্ধে। ভারতের বিহারের বাসিন্দা স্নেহলতা নামের ওই নারীর মরদেহ উত্তর প্রদেশের ইটাওয়া জেলার পাঁচনাদা এলাকায় কুমিরের উপস্থিতি থাকা একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশের সন্দেহ। ঘটনার কয়েক দিন পেরিয়ে গেলেও তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্ত সত্যপ্রকাশ জিজ্ঞাসাবাদে স্নেহলতাকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এরপর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। তবে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ ওই নারীর মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কুমিরের নদীতে মরদেহ ফেলার অভিযোগ
ভারতের উত্তর প্রদেশের ইটাওয়া জেলার পাঁচনাদা এলাকায় পাঁচটি নদীর মিলনস্থলে স্নেহলতার মরদেহ ফেলা হয়েছে বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের ধারণা ছিল, নদীতে কুমির থাকায় সেগুলো মরদেহটি খেয়ে ফেলতে পারে। এতে মরদেহের সন্ধান পাওয়া কঠিন হবে।
বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযুক্ত সত্যপ্রকাশকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরের পাঁচনাদা এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে নিখোঁজ নারীর মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি চালানো হয়। এ অভিযানে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সহায়তা নেওয়া হয়।
তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরও স্নেহলতার মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল এবং নদীতে মরদেহ ফেলার পর কী হয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
সম্পর্ক, সন্তান নিয়ে বিরোধ
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিহারের বাসিন্দা স্নেহলতার সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের ভিন্ডের জোশি নগরের বাসিন্দা সত্যপ্রকাশের পরিচয় হয় একটি বেসরকারি কলেজে। স্নেহলতা ওই কলেজে পড়াশোনা করতেন এবং সত্যপ্রকাশ সেখানে কাজ করতেন। পরে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তাঁরা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন।
সত্যপ্রকাশ আগে থেকেই বিবাহিত ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে স্নেহলতা তাঁদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। সন্তানকে কেন্দ্র করে এবং সত্যপ্রকাশের কাছে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি চাওয়াকে ঘিরে তাঁদের মধ্যে বিরোধ বাড়ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তদন্তকারীদের ধারণা, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও পারিবারিক বিরোধ এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
কেনাকাটার কথা বলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর সত্যপ্রকাশ কানপুর যাওয়ার কথা বলে স্নেহলতাকে সঙ্গে নেন। তাঁকে কেনাকাটা করানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে স্নেহলতার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্নেহলতা নিখোঁজ হওয়ার পর সত্যপ্রকাশ নিজেই ভিন্ড সিটি কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ করেন। তাঁকে খুঁজে পেতে প্রচারপত্রও ছাপানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে তদন্তের একপর্যায়ে স্নেহলতার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় সত্যপ্রকাশের ভূমিকা নিয়ে পুলিশের সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্নেহলতাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরিবারের কঠোর পদক্ষেপের দাবি
ঘটনার খবর পেয়ে বিহারের নালন্দা থেকে স্নেহলতার পরিবারের সদস্যরা ভিন্ডে পৌঁছান। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্নেহলতার মরদেহ উদ্ধারে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। নদীতে কুমিরের উপস্থিতি এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধার করা গেলে ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া।