মোঃআনজার শাহ :-
কুমিল্লার বরুড়া পৌর এলাকায় একটি পাগলা কুকুরের আকস্মিক আক্রমণে শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত এক চিকিৎসক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পর থেকে গোটা পৌর এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুকুরটি পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়ক ও মহল্লায় ছুটে বেড়িয়ে একের পর এক মানুষকে কামড়ায়। হঠাৎ আক্রমণের এই ঘটনায় শিশু থেকে বয়স্ক সব বয়সী মানুষই আশঙ্কায় রয়েছেন। সর্বশেষ কুকুরটি নয়নতলা এলাকায় প্রবেশ করে বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে ফারহানা, মনু মিয়া, তাঁর ছেলে ইকবাল, তানিয়া ও ফাহিমার নাম জানা গেছে। ফারহানা বরুড়ার বাসিন্দা; তাঁর স্বামীর নাম মনির। মনু মিয়ার বাবার নাম মকরম আলী। তানিয়ার স্বামীর নাম ফরিদ এবং ফাহিমার বাবার নাম দুলাল। আহতদের বেশ কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, কুকুরের কামড়ের পর জলাতঙ্ক প্রতিরোধে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কামড় বা আঁচড় লাগলে ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পরিষ্কার পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধুয়ে দেরি না করে হাসপাতালে যেতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনসহ চিকিৎসা নিতে হবে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পৌরবাসীর প্রতি সতর্কতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের ঘরের বাইরে যেতে না দেওয়া, কুকুরটি চোখে পড়লে কাছে না যাওয়া এবং ধাওয়া বা ধরার চেষ্টা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিশু ও বয়স্কদের চলাচলের সময় বাড়তি সতর্কতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেন, দ্রুত কুকুরটিকে ধরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং পৌর এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তাঁদের মতে, সতর্কতা না নিলে এ ধরনের ঘটনা আরও বড় জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।