তিনটি গুলির শব্দ শুনে ছুটে গিয়ে দেখি বাবা পড়ে আছে

নিজস্ব প্রতিবেদক:

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দিলশাদপুর এলাকায় গুলিতে নিহত মাটি ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমের মেয়ে প্রেমা আক্তার অভিযোগ করেছেন, মাটির ব্যবসাকে কেন্দ্র করেই তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার আগে তাঁর বাবাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং এর দুই মিনিট পরই তিনি তিনটি গুলির শব্দ শুনতে পান বলে জানান প্রেমা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেমা আক্তার বলেন, তাঁর বাবা খোরশেদ বাড়িতে ছিলেন। এ সময় মজিদ ও মোরশেদ তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। তাঁদের সামনে ডাবের একটি গাড়ি যাচ্ছিল এবং পেছনে তিনজনকে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এর প্রায় দুই মিনিট পরই তিনটি গুলির শব্দ শোনা যায়।

তিনি বলেন, গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মোরশেদ ও মজিদ দৌড়ে এসে তাঁকে জানান, ওয়ালিদ ও সোহাগ তাঁর বাবাকে গুলি করেছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি কাউকে দেখতে পাননি, শুধু তাঁর বাবাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁর মা সেখানে আসেন। প্রেমার দাবি, মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম বলেছেন।

প্রেমা আরও বলেন, তাঁর বাবা একসময় বিএনপির কর্মী ছিলেন। বিএনপি করার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে তাঁকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ। তবে তাঁর বাবার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক বিরোধের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেন তিনি।

প্রেমার ভাষ্য, তাঁর বাবা মাটির ব্যবসা করতেন। এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে একটি ইটভাটার মালিক হিরুসহ কয়েকজন তাঁর বাবার বিরোধিতা করছিলেন। এর আগেও মাটির ব্যবসা বন্ধ করতে তাঁকে বারবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

প্রেমা বলেন, মৃত্যুর আগে তাঁর বাবা হিরু, ওয়ালিদ ও সোহাগের নাম উল্লেখ করেছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।

খোরশেদ আলম হত্যার ঘটনায় বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাঁর স্ত্রী আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলায় আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে।

এর আগে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইব্রাহিম ছুট্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে। ইব্রাহিম ছুট্টু সদর উপজেলার পার্বতীনগর ইউনিয়নের দিলশাদপুর গ্রামের বক্স আলী ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সৈয়দ আহম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। অন্যদিকে, মাসুদ রানা বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের রাধাপুর গ্রামের তোফায়েল আহমেদের ছেলে। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে দিলশাদপুর এলাকায় খোরশেদকে গুলি করা হয়। একই এলাকার ওয়ালিদের নেতৃত্বে মান্না, ইব্রাহিম ছুট্টু, কামরুল, বাচ্চু, হিরু, জহিরসহ আরও পাঁচ থেকে ছয়জন এলোপাতাড়ি গুলি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে গুলিবিদ্ধ খোরশেদকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত খোরশেদ আলম দিলশাদপুর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে। তিনি পেশায় মাটি ব্যবসায়ী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খোরশেদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *