মোঃআনজার শাহ
গণপূর্ত অধিদপ্তরে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা বদলি-পদায়নের অনিয়ম ও তদবিরের সংস্কৃতি বন্ধ করতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। অথচ কোনো কোনো গণমাধ্যম সেই উদ্যোগকেই বিতর্কিত করতে চাইছে। এই প্রবণতাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
রাজধানীর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মিলনায়তনে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা আয়োজিত ‘জাতীয় সাংবাদিক সমাবেশ-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সরকার বা মন্ত্রণালয় কোনো ভালো উদ্যোগ নিলেও তার ইতিবাচক দিকগুলো অনেক সময় সংবাদে যথাযথভাবে উঠে আসে না। উদাহরণ হিসেবে তিনি গণপূর্ত অধিদপ্তরের বদলি ও পদায়নের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ ও অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছিল। তদবির ও অনিয়মের পথ রুদ্ধ করে কীভাবে একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে অনেক ভাবনাচিন্তার পরই লটারির মাধ্যমে বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জানান, বদলি ও পদায়নে কোনো ব্যক্তিগত তদবির বা প্রভাব যাতে কাজ না করে, সেটিই ছিল সরকারের লক্ষ্য। সে কারণে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত পরিবেশে লটারি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ৪০ থেকে ৫০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। এই পদ্ধতিতে প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ জন প্রকৌশলীর বদলি ও পদায়ন সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। তবে মানবিক বিবেচনার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ‘বদলি বাণিজ্য’ বন্ধে এমন স্বচ্ছ প্রক্রিয়াকেও কোনো কোনো গণমাধ্যম বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গণতন্ত্র, সুশাসন ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের বিকাশে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা স্মরণ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মুক্ত গণমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতায় বিশ্বাস করেন। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম সম্প্রসারণের পাশাপাশি অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্দশাগ্রস্ত সাংবাদিকদের সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁরা যেমন সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পারেন, তেমনি ভালো কাজকে উৎসাহিত করতেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার মহাসচিব মো. আলমগীর গণির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংস্থার নেতা মো. জামাল হোসেন। এ সময় ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওবায়দুর রহমানসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সংস্থার বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও প্রতিনিধিরা অংশ নেন।