নিজস্ব প্রতিবেদক:
শত বছরের ঐতিহ্য, গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের দীপ্ত উত্তরাধিকার নিয়ে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে চলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। ভাষা আন্দোলন থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা রেখেছেন সাহসী ভূমিকা। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, গবেষণা, রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সমুন্নত করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরু।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই গভীর শ্রদ্ধায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন বাদরু। তিনি বলেন, শত বছরের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বেগম খালেদা জিয়া এই বিদ্যাপীঠের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করেছেন। এ জন্য তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অবদান রাখা সবার প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়ে বাদরু বলেন, যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই প্রতিষ্ঠার পেছনে ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি সাবেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাদরুর ভাষ্যে, জবি দিবসের এই আনন্দঘন ও গৌরবময় আয়োজনকে মহিমান্বিত করতে প্রধান অতিথির উপস্থিতি অত্যন্ত সম্মান ও আনন্দের।
প্রধান অতিথির পাশাপাশি জাতীয় সংসদের হুইপ, সংসদ সদস্য, সাবেক ছাত্রনেতা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী অসংখ্য নেতার উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের মূল্যবান বক্তব্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিজের বক্তব্য দীর্ঘায়িত করতে চান না। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কয়েকটি কথা বলার আছে।
গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও রাষ্ট্র বিনির্মাণে অবিস্মরণীয় ভূমিকা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে বাদরু বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন। ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও স্বাধীনতা-পরবর্তী বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীদের অবদান জাতির ইতিহাসে গৌরবের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে আছে।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতার স্বাক্ষর রাখছেন। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, গবেষণা, রাষ্ট্র বিনির্মাণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাঁরা দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন বাদরু।
শান্তি, শিক্ষা, ঐক্য ও গবেষণার অনন্য বিদ্যাপীঠের স্বপ্ন
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হবে শান্তির, শিক্ষার ও ঐক্যের বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণার উৎকর্ষে বিশ্বমানের একটি বিদ্যাপীঠ।
বাদরু আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার সম্প্রসারণ এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এই শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের পরিচয় আরও উজ্জ্বল করবে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নিজের গৌরবোজ্জ্বল অবস্থান অক্ষুণ্ন রেখে বিশ্ববিদ্যালয়টি আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে বাদরু বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ও গবেষণায় নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে বিশ্বদরবারে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাবেন এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। পরে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জিন্দাবাদ’, ‘জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জিন্দাবাদ’ ও ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় জিন্দাবাদ’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আয়োজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐতিহ্য, গৌরব ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক নতুন প্রত্যয় জাগিয়ে তুলেছে।