৪৪ বছর দায়িত্ব পালনের পর সাংবাদিক কামাল হোসেনকে সরানোর উদ্যোগ কক্সবাজারে ক্ষোভ

মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম খোকন:

দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার কক্সবাজার জেলা সংবাদদাতা হিসেবে টানা ৪৪ বছর দায়িত্ব পালন করা প্রবীণ সাংবাদিক কামাল হোসেনকে না জানিয়ে তাঁর দায়িত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কক্সবাজারের স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন মহলের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিক কামাল হোসেন সাত দশকের বেশি বয়সে পৌঁছেও দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলার সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবন ও অবদান রয়েছে। এমন একজন প্রবীণ সাংবাদিকের সঙ্গে আলোচনা না করে কিংবা তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত না করে দায়িত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া দুঃখজনক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিনের কর্মসম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাঁর সঙ্গে সম্মানজনক আলোচনা ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা উচিত ছিল। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রবীণ সাংবাদিকদের মর্যাদা ও পেশাগত স্বীকৃতির প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে।

এ বিষয়ে সাংবাদিক কামাল হোসেন বলেন, দৈনিক সংগ্রামের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ ৪৪ বছরের সম্পর্ক। এত দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই দায়িত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ তাঁকে ব্যথিত করেছে। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কক্সবাজারে স্টাফ রিপোর্টার ও ব্যুরোপ্রধানের পদ রয়েছে। দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষও চাইলে তাঁকে সম্মানজনকভাবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিতে পারত।

কামাল হোসেন আরও বলেন, তাঁর চার ছেলে বর্তমানে সাংবাদিকতা পেশায় সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যোগ্যতা বিবেচনায় তাঁদের একজনকে কক্সবাজারের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিও তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব করেছিলেন। এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করলেও তা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। বরং তাঁকে না জানিয়ে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

এদিকে বিবৃতিতে দৈনিক সংগ্রাম কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রবীণ সাংবাদিক কামাল হোসেনের দীর্ঘ কর্মজীবনের যথাযথ মূল্যায়ন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং আলোচনার মাধ্যমে সম্মানজনক সমাধানের দাবি জানানো হয়।

তবে এ বিষয়ে দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা-ও প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *