ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বিদেশ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে। দলটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদাতা, পাকিস্তানের রাজনীতিক এবং ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন দলটির নেতারা।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে জিতেন্দ্র সিংহ দাবি করেন, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক এবং নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে তাঁদের কাছে তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ভারতবিরোধী বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন এবং দেশের ভেতরে ও বাইরের কয়েকটি সংস্থা থেকে দলটি অর্থ পেয়েছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত সংগঠন, তথাকথিত গভীর রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদাতাদের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন অভিজিৎ দীপক। অন্যদিকে পাকিস্তানের রাজনীতিকদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন আশুতোষ রাঙ্কার বিরুদ্ধে।

এসব অভিযোগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানান অভিজিৎ দীপক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে তিনি লেখেন, ‘আর সৌরভকে?’ পাশাপাশি বিপুল অর্থ মাথায় নিয়ে ঘোরার একটি ব্যঙ্গচিত্রও প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানকে বিভিন্ন বিষয়ে দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, ভোট চুরি ও বেকারত্ব বৃদ্ধির জন্যও পাকিস্তান দায়ী। এ মন্তব্যের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের অভিযোগকে উপহাস করেন তিনি।

এদিকে বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহাও ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল দলটি। গত এক মাসে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ উসকে দেওয়া ও নৈরাজ্য তৈরি করা।

একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুহিন সিনহা বলেন, ককরোচ জনতা পার্টি ও কংগ্রেস উভয়ই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুনানি চলাকালে রাহুল গান্ধীর সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে দলটির মক সংসদ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা। তাঁর অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আবারও তলব করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তরমন্তরে প্রবেশ এবং অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গেছে।

তবে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের তথ্যপ্রমাণ রয়েছে, সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারাও অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন। ফলে বিদেশি অর্থায়ন ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *