বিজয় দিবসের জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত যেসব আয়োজন থাকছে

অনলাইন ডেস্ক:

আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি চূড়ান্ত করেছে সরকার। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক অর্পণ, বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, দেশজুড়ে তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা, কুচকাওয়াজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতা।

মহান বিজয় দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে জাতীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সব সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে কার্যবিবরণী পাঠিয়েছে। এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।

সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৬ ডিসেম্বর বিকেলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় নির্ধারিত সময়ে বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় ৩১ বার তোপধ্বনি করা হবে। এরপর সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিকেরাও স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় স্মৃতিসৌধ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সময় পর্যন্ত নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল সীমিত রাখা হবে।

স্মৃতিসৌধের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা-আরিচা ও ঢাকা-আশুলিয়া-সাভার সড়ক সংস্কার, ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং সড়ক বিভাজকে রং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্মৃতিসৌধের সামনের অংশ ও সড়কের দুই পাশের অবৈধ ছাপড়া দোকান উচ্ছেদ করতে হবে। ঢাকা থেকে সাভার পর্যন্ত সড়কের পাশে পোস্টার, ফেস্টুন, ব্যানার ও ওভারহেড তোরণ নির্মাণ করা যাবে না।

এ ছাড়া স্মৃতিসৌধের সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মোবাইল টয়লেট, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসকের ব্যবস্থা রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভিভিআইপি ও ডিআইপিদের অভ্যর্থনাস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় দেশের সব জেলা ও উপজেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, শিক্ষার্থীদের সমাবেশ, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হবে। বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্টেডিয়াম বা সুবিধাজনক স্থানে এসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয়মেলা অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় চারু, কারু ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্পপণ্য প্রদর্শন করা হবে। শিশুদের অংশগ্রহণে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হবে। এতে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু খেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠান প্রচার করা হবে। এ ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলার সিনেমা হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনা টিকিটে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হবে। পাশাপাশি মিলনায়তন বা উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জাদুঘর এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাগুলো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিনা টিকিটে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনকেন্দ্র শিশুদের জন্য বিনা টিকিটে উন্মুক্ত রাখা হবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এসব অনুষ্ঠানে বিদেশি অধ্যাপক, বিশিষ্ট নাগরিক, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, শিল্পী-সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেবেন।

বিজয় দিবসে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের পাগলা, বরিশাল ও চাঁদপুরের বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের জাহাজ দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।

এ ছাড়া শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনায় মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, ভবঘুরে পুনর্বাসন কেন্দ্র ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ সাপেক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বাণীও সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ১৬ ডিসেম্বর জাতীয় জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে সীমাহীন ত্যাগ ও অসীম বীরত্বের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি মহান বিজয় অর্জন করেছে। বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *