কক্সবাজার রিপোর্টার:
রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে UNHCR স্থানীয় এনজিওদের সক্ষমতাকে অবজ্ঞা করছে বলে অভিযোগ করেছে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটি–এনজিও ফোরাম (CCNF)। আজ মঙ্গলবার কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি ২০২৬–২০২৭ সালের জন্য UNHCR-এর অংশীদার নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে “বৈষম্যমূলক ও নীতিবিরোধী” বলে আখ্যায়িত করে।
সংগঠনটি জানায়, ২০২৫ সালে UNHCR-এর অংশীদারদের মধ্যে ১৩ শতাংশ স্থানীয় এনজিও থাকলেও নতুন চক্রে স্থানীয় এনজিওর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে। CCNF-এর দাবি—এই সিদ্ধান্ত UNHCR-এর নিজস্ব “লোকালাইজেশন গাইডলাইন”, “গ্র্যান্ড বার্গেইন ২০১৭” এবং “অংশীদারিত্ব নীতি ২০০৭”-এর বিরোধী।
CCNF জানায়, আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো কক্সবাজারে স্থানীয়দের সঙ্গে অংশীদার না হয়ে তহবিল সংগ্রহে প্রতিযোগিতা করছে। সংগঠনটির মতে, “INGO–গুলোর তহবিল সংগ্রহের জায়গা কক্সবাজার নয়; তাদের নিজ দেশে এই কাজ করা উচিত।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়—২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের আগমনের পর প্রথম সাড়াদানকারী ছিল স্থানীয় জনগণ ও স্থানীয় এনজিওসমূহ; তাদের অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের জ্ঞান সবচেয়ে সমৃদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে UNHCR স্থানীয় এনজিওদের প্রতি অবিশ্বাস দেখাচ্ছে, যা “অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য”।
CCNF দাবি করে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয়কেন্দ্র কোনোভাবেই স্থায়ী কাঠামো হওয়া যাবে না। বরং পূর্ব-নির্মিত (Prefabricated) ঘর নির্মাণ করতে হবে এবং এর নকশা স্থানীয় সরকার ও স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।
অবস্থান পত্রে জানানো হয়, বিশ্বব্যাংক রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের জন্য ৭০০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন করলেও বাস্তবায়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় এনজিওগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। CCNF এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।
সংগঠনটি আরও জানায়, উখিয়া–টেকনাফে প্রতিদিন ২৫ মিলিয়ন লিটারেরও বেশি ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন স্থানীয়দের ভবিষ্যৎ পানির নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে। ক্যাম্পের পাশে ৩০০ একর নষ্ট জমি বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে চাষযোগ্য করার প্রস্তাবও তারা উত্থাপন করে।
CCNF-এর প্রধান দাবিগুলো
১. UNHCR-এর ২০২৬–২০২৭ অংশীদার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত বাতিল ও পুনর্বিবেচনা।
২. বিশ্বব্যাংকের তহবিলে স্থানীয় এনজিওদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
৩. রোহিঙ্গাদের জন্য স্থায়ী নয়, প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর নির্মাণ।
৪. INGOs–দের তহবিল সংগ্রহ নিজ দেশে করা বাধ্যতামূলক করা।
৫. কক্সবাজারের বাইরে থেকে আসা এনজিওদের জন্য স্থানীয় এনজিওর সঙ্গে অংশীদারত্ব বাধ্যতামূলক করা।
সংবাদ সম্মেলনে CCNF মন্তব্য করে—
“স্থানীয়দের অবমূল্যায়ন মানে স্থানীয় জনগণকে অবমূল্যায়ন। কক্সবাজারে মানবিক কার্যক্রম হবে স্থানীয় নেতৃত্বনির্ভর—এটাই আমাদের দাবি।”