বিশেষ প্রতিবেদক:
বিজ্ঞ আদালতের আদেশ অমান্য করে হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেফতার না করে আসামীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির।
আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১ নং আসামি করে প্রায় ২৫০ জনের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ঢাকা’র নির্দেশে ১৬ নভেম্বর ২০২৫ যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। বাদী সেলিনা বেগম জানিয়েছেন, ৫ আগস্টে ছাত্র জনতার মিছিলে আওয়ামী লীগের দোসররা তার ছেলেকে হত্যা করেছে। বাদী বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে মামলা দায়ের করেন এবং বিচারক যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মামলা রুজু করে আদালতকে অবগত করতে বলেন।
১৬ নভেম্বর মামলা রুজু হলেও অদ্যবতি পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় বাদী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। হত্যা মামলার আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করায় জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে যে আসামি কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তিনি বলেন, “উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।”
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আসামিরা একেকজন একেক জায়গায় থাকে, খুব শীঘ্রই রিকুইজিশন পাঠানো হবে নিকটস্থ থানায় আসামি ধরার জন্য।” চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কোড ইন্সপেক্টর বলেন, “যেহেতু বিজ্ঞ আদালত থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন মামলা রুজু করার জন্য এবং কোর্টের নির্দেশ মামলা হয়েছে, তাই আসামিদের গ্রেফতার করতে আইনগত কোনো বাধা নেই।”
যাত্রাবাড়ী থানার ওসি তদন্তের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “মামলার আসামি প্রায় দুই শতাধিক, তাই নিকটস্থ থানায় রিকুইজিশন পাঠাতে একটু বিলম্ব হচ্ছে, তবে খুব শীঘ্রই আমরা সকল থানায় রিকুইজিশন পাঠাবো আসামিদের গ্রেফতার করার জন্য।”
অন্যদিকে বাদী সেলিনা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির বাদীকে কোনো সহযোগিতা করছে না। কোর্টের আদেশ অমান্য করে আসামিদের গ্রেফতার না করে আসামিদের নিকট থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে অপরাধীদের অবাধে ঘুরাফেরা করার সুযোগ করে দিয়েছে। যার ফলে বাদী ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় জীবনযাপন করছে, কখন কি হয় বলা যায় না। হত্যা মামলার আসামিরা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে এবং ২০২৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে এই হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাদী।”
স্থানীয় পর্যায়ে জানা গেছে, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জাকির নিজেও একজন আওয়ামী দোসর। তার অধীনে এই মামলার তদন্ত কতটুকু সাফল্য বয়ে আনবে, সেটাই দেখার বিষয়।