নাছিমা খাতুন সুলতানা:
নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ৭নং নায়েকপুর ইউনিয়নের বাঁশরি গ্রামে বিদ্যুৎ অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে অবৈধ সেচ লাইন সংযোগ দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈধ সেচ মালিকরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে বাঁশরি গ্রামের মৃত বক্তার হোসেন তাংয়ের ছেলে মোঃ টিটু তাং এবং একই গ্রামের সবুজ মিয়া সরকারিভাবে দুটি সেচের অনুমোদন পান। এই দুটি বৈধ সেচের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সাধারণ কৃষক ও চাষিরা তাদের জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ পেয়ে কৃষি উৎপাদনে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠেন। বিগত বহু বছর ধরে এসব সেচ নিয়ে কোনো ধরনের বিরোধ বা সমস্যা ছিল না।
কিন্তু সম্প্রতি কিছু পরধনলোভী অসাধু ব্যক্তি বিদ্যুৎ অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ম্যানেজ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইনের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সাইট কালেকশন লাইনের মাধ্যমে অবৈধ সেচ চালু করে। অভিযোগ রয়েছে, মৃত মুক্তজ আলীর ছেলে মোঃ এখলাছ মিয়া শিল্প ও বাণিজ্যিক লাইন থেকে অবৈধভাবে সেচ সংযোগ নিয়ে বৈধ সেচের গ্রাহকদের জমিতেই পানি সরবরাহ করছেন, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
এ নিয়ে বৈধ সেচ মালিকদের সঙ্গে অবৈধ সেচ পরিচালনাকারীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ইং দুপুরে বৈধ সেচ মালিকদের সঙ্গে অবৈধ সেচের মালিক ও তার লোকজনের কথা কাটাকাটি হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার জের ধরে মোঃ এখলাছ মিয়া পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার লোকজনসহ বৈধ সেচ মালিকদের ওপর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বিবেচনায় দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানে অন্তত একজন আহত ব্যক্তি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াহেদ বাদী হয়ে মদন থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মোঃ শামসুল ইসলামসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় মদন থানায় মামলা নং–১৫ (১) ২৬ রুজু হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পুরো বাঁশরি গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঢাকা থেকে প্রকাশিত একাধিক জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে এলাকাবাসী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, “দীর্ঘদিন ধরে টিটু তাং ও সবুজ মিয়ার বৈধ দুইটি সেচের মাধ্যমেই আমরা পানি পেয়ে আসছিলাম। হঠাৎ করে অবৈধ সেচ চালু করে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এর ফলেই এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে।”
বর্তমানে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ভুক্তভোগী বৈধ সেচ মালিক ও তাদের পরিবারবর্গ জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা পুলিশ সুপারের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ সেচ লাইন বিচ্ছিন্ন করে জড়িত বিদ্যুৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।