স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) জোন ৬/১-এর ইমারত পরিদর্শক ডেভিড চাকমা দায়িত্বশীলতা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। নির্মাণ আইন বাস্তবায়ন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিতকরণ, অবৈধ স্থাপনা ও অনিয়ম প্রতিরোধ এবং নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে জানা যায়। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডেভিড চাকমা ২০১৮ সালে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (রাজউক) ইমারত পরিদর্শক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে তিনি নির্মাণকাজ তদারকি, অনুমোদিত নকশা যাচাই, ভবন নির্মাণবিধি বাস্তবায়ন এবং আইনবহির্ভূত নির্মাণ কার্যক্রম প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি সরকারি বিধি-বিধান মেনে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরবর্তীতে সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে তাকে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে (কউক) বদলি করা হয়। সেখানে দায়িত্ব পালনকালে তিনি উন্নয়ন কার্যক্রম, ভবন নির্মাণ তদারকি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করার কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাকে আরও দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা হিসেবে গড়ে তুলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। ২০২৫ সালে পুনরায় রাজউকে ফিরে এসে তিনি জোন ৬/১-এ ইমারত পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ নিশ্চিতকরণ, অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ করে আসছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জোন ৬/১ এলাকায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তিনি তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সরেজমিন পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গ্রহণের পর আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অভিযোগ সঠিক প্রমাণিত হলে তিনি দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। স্থানীয় সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের মতে, ডেভিড চাকমা দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত প্রভাব বা সুপারিশের পরিবর্তে আইন ও বিধিমালাকেই অগ্রাধিকার দেন। ফলে জোন ৬/১ এলাকায় নির্মাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখতে তার ভূমিকা ইতিবাচক বলে তারা মনে করেন। জানা গেছে, তিনি নিয়মিতভাবে নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করেন এবং অনুমোদিত নকশা ও রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা, নোটিশ প্রদান কিংবা প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করেন। নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানীতে পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে রাজউকের ইমারত পরিদর্শকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবন নির্মাণবিধি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে যেমন নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়, তেমনি কমে আসে অপরিকল্পিত নগরায়ণের ঝুঁকিও। এ ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতাই সবচেয়ে বড় বিষয়। সংশ্লিষ্টরা আরও বলেন, যেকোনো অভিযোগ যথাযথ তথ্য-প্রমাণসহ উপস্থাপন করা হলে দ্রুত তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। ডেভিড চাকমাও সেই নীতির আলোকে দায়িত্ব পালন করছেন বলে তারা জানান।