নিজস্ব প্রতিনিধি: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিশোরগঞ্জ সফরের পথে দলের এই অসাধারণ সাফল্যের খবর পান তিনি।
অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারিয়ে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে প্রথম ম্যাচেই এমন সাফল্য পেল লাল-সবুজের দল।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এএএম সালেহ শিবলী জানান, বাংলাদেশ দলের জয় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই প্রধানমন্ত্রী বিসিবি পরিচালক ফাহিম সিনহাকে ফোন করেন। এ সময় তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত, খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ জাতীয় দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন জানান।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনসহ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নিতে সড়কপথে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। যাত্রাপথেই তিনি বাংলাদেশ দলের ঐতিহাসিক জয়ের খবর পান এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
পরে ভিডিও কলের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশবাসীর পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার কঠিন কন্ডিশনে স্বাগতিকদের মাটিতে শক্তিশালী দলকে হারানো বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবের একটি মুহূর্ত।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস, দৃঢ় মনোবল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্য এবং দলগত প্রচেষ্টার ফলেই এই অসাধারণ সাফল্য এসেছে। দলের এই জয়ে দেশের মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাংলাদেশ দল দেশে ফেরার পর তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সংবর্ধনা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোতে দলীয় শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
ডারউইনের মাররারা ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সিরিজের প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৪২৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস থামে মাত্র ১৯৮ রানে। এতে ২২৮ রানের বড় লিড পায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ রান করলে বাংলাদেশের সামনে জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭ রান। শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম শূন্য রানে ফিরে গেলেও সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হকের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে দ্রুত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। মাত্র ১৪.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে জয় নিশ্চিত করে শান্তর দল।
এই জয়ের ফলে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল বাংলাদেশের। একই সঙ্গে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ দল।