নিজস্ব প্রতিবেদক:
ইসলামের নীতি-আদর্শ, নৈতিকতা ও মূল্যবোধে নিজেদের গড়ে তুলতে পারলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগের শহীদ ওসমান হাদি চত্বরে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও সহযোগী সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও সাবেক নেতারা এবং বিপুলসংখ্যক ছাত্র-জনতা অংশ নেন।
চরমোনাই পীর বলেন, ছাত্রজীবন নিজেকে গড়ে তোলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও আদর্শিক চেতনায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যতে দেশ ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন রয়েছে। তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আদর্শভিত্তিক সংগঠন। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে দেশে অরাজকতা, সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও নানা ধরনের অপকর্মের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এর বিপরীতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ নীতি, নৈতিকতা ও আদর্শকে ধারণ করে সমাজে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শুধু একটি ছাত্র সংগঠন নয়; এটি একটি আদর্শিক আন্দোলনের প্রশিক্ষণকেন্দ্র। এখান থেকে এমন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে, যারা সততা, ন্যায়, ইনসাফ ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, নিজেদের ইসলামের নীতি-আদর্শে গুণান্বিত করতে পারলে তাদের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান
সমাবেশে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, সরকারকে গণভোটের প্রথা প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা পূরণ করতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ সরকারকে ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গড়িমসি বা অবহেলা গ্রহণযোগ্য নয়।