আবরারের আত্মত্যাগ ও মূল্যবোধ ধারণের আহ্বান ছাত্রদলের

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক:

শহীদ আবরার ফাহাদের ৭ম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতারা। এ উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করেছে সংগঠনটি।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সিনেট ভবনের নিচতলায় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রনীতি : আধিপত্যবাদ, সম্প্রসারণবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য এবং স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতা সুরক্ষার অঙ্গীকার’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভা সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

সভায় বক্তব্য দেন শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গনেশ চন্দ্র রায় সাহস ও সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন।

এ ছাড়া ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ঢাকা কলেজ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে ভাষায় প্রতিবাদ করেছিলেন, তা ছিল শক্ত, স্পষ্ট ও সাবলীল। তাঁর প্রতিবাদের ভাষা ও আত্মত্যাগ থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের যে মূল্যবোধ ও প্রতিবাদের সাহস ছিল, তা ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ড. এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, আবরার ফাহাদের যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের কারণে তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিল, সেটি তিনি অনুষ্ঠানে আসার আগে দেখেছেন। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যারা রাস্তায় নেমেছিলেন, তাদের ভাবনার সঙ্গে ওই পোস্টের বক্তব্যের অনেক মিল ছিল।

তিনি বলেন, আবরারের পোস্টের মূল বক্তব্য ছিল রাষ্ট্রের সম্পদ অন্য রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ যথাযথভাবে রক্ষা করা হচ্ছে না। এ প্রতিবাদের কারণেই তাকে শাহাদাত বরণ করতে হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শহীদ আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগ জড়িত ছিল। তাঁর অভিযোগ, ওই সংগঠনকে নিষিদ্ধ না করে তৎকালীন বুয়েট কর্তৃপক্ষ ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করেছিল। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী আচরণ করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, আবরার ফাহাদের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়ার অনেক কিছু রয়েছে। ছাত্ররাজনীতি মেধাবীদের রাজনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখান থেকেই পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক রাজনীতিক উঠে আসেন। মেধাবীদের নেতৃত্বে রাখা গেলে প্রতিটি ছাত্রসংগঠন থেকেই দেশের বরেণ্য রাজনীতিক তৈরি হতে পারেন।

বরকত উল্লাহ আরও বলেন, কিছু ব্যক্তির ফ্যাসিবাদী চিন্তার রাজনীতিকে পরাস্ত করলেই ফ্যাসিবাদ পুরোপুরি নির্মূল হয় না। এ বিষয়টি মনে রেখে আবরারের ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ আবরার ফাহাদের বাবার পাশে বসতে পেরে তিনি গর্বিত ও আপ্লুত। তাঁর অভিযোগ, বিগত শাসনামলে দেশের সার্বভৌমত্ব দুর্বল করে পার্শ্ববর্তী দেশের স্বার্থ রক্ষা করা হয়েছিল।

রিজভী বলেন, এই নতিস্বীকারের বিরুদ্ধে আবরার ফাহাদ যে সাহসী ও তীক্ষ্ণ প্রতিবাদ করেছিলেন, সেটিই ছিল তাঁর ‘আসল অপরাধ’। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে পুরো জাতিকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আবরার ফাহাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড পুরো জাতিকে কাঁদিয়েছিল এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে জাগিয়ে তুলেছিল। তাঁর দাবি, সেই জাগরণেরই চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *