এ আর সুমন:
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল অষ্টগ্রামে ধীরে ধীরে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হাওয়া। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেওঘর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা, চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শুরু হতে এখনো সময় বাকি থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হচ্ছে আগ্রহ ও কৌতূহল। এরই মধ্যে দেওঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী, ব্যবসায়ী ও দেওঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনসুর আলম চৌধুরী।
তবে চেয়ারম্যান পদকে ক্ষমতার আসন হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবা করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখতে চান বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মানুষের ভালোবাসা ও উৎসাহ তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ভাবতে অনুপ্রাণিত করছে। নির্বাচিত হলে দেওঘর ইউনিয়নকে একটি উন্নত ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি। সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে মনসুর আলম চৌধুরী বলেন, “আমি নিজেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে দেখছি না, আমি নিজেকে দেওঘর ইউনিয়নের একজন সেবক হিসেবে দেখতে চাই। এ যাবৎকাল মানুষের সেবা করে আসছি। যতদিন বেঁচে থাকব, ইনশাআল্লাহ, ততদিন জনগণের সেবক হয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং সেবা করে যেতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষ তাঁকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করছেন। তাঁদের ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে আরও বৃহৎ পরিসরে জনসেবা করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। দেওঘর ইউনিয়নের মানুষ তাঁকে ভালোবাসেন বলেই তাঁরা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য উৎসাহ দিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে দেওঘর ইউনিয়নকে অষ্টগ্রাম উপজেলার অন্যতম উন্নত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মনসুর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “আমি যদি নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারি, তাহলে দেওঘর ইউনিয়নকে উপজেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ। বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা ও প্রতিবন্ধী ভাতাসহ সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে কাজ করব। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে তাঁদের কল্যাণে কাজ করতে চাই।” তাঁর বক্তব্যে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা, বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনসুর আলম চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাঁর সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে দেওঘর ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আলোচনা চলছে। ইউনিয়নের পাওন এলাকার সাদ্দাম ও মিন্টু ভূঁইয়া তাঁর সম্পর্কে নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্য, মনসুর আলম চৌধুরী ব্যক্তি হিসেবে ভালো ও সাদা মনের মানুষ। তাঁরা আশা করেন, তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে দল-মতনির্বিশেষে মানুষ তাঁর পাশে দাঁড়াবেন। তাঁরা আরও প্রত্যাশা করেন, নির্বাচিত হলে তিনি দেওঘর ইউনিয়নের বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেবেন এবং রাস্তাঘাট, শিক্ষা, সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রাখবেন।
দেওঘর ইউনিয়নের আগামী দিনের নেতৃত্ব, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণের বিষয়গুলোকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা ক্রমেই গুরুত্ব পাচ্ছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মনসুর আলম চৌধুরীর বক্তব্য ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে তাঁর প্রার্থিতা, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আসন্ন নির্বাচনে অন্যান্য সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান এখনো চূড়ান্তভাবে স্পষ্ট নয়। নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে দেওঘর ইউনিয়নের নির্বাচনী পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। সব মিলিয়ে অষ্টগ্রামের দেওঘর ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নির্বাচনে যিনিই নেতৃত্বের দায়িত্ব পান, তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।