আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে পাকিস্তানের করাচিগামী একটি পাকিস্তানি কার্গো বিমান আরব সাগরের আকাশে নিখোঁজ হয়েছে। উড়োজাহাজটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন। বিমানটির সন্ধানে পাকিস্তান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী যৌথভাবে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান শুরু করেছে।
পাকিস্তানের একটি বেসরকারি কার্গো এয়ারলাইন্সের মালিকানাধীন বিমানটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ২১ মিনিটের দিকে রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ হারায়। প্রতিষ্ঠানটির এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ফ্লাইটরাডার২৪–এর তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় বিমানটি পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেলুচিস্তান প্রদেশের ওরমারা উপকূলের কাছাকাছি আরব সাগরের আকাশে অবস্থান করছিল।
তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি তখন প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় ৭৯০ কিলোমিটার গতিতে উড়ছিল। তবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে এটি প্রায় ৩৪ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে এবং গতিবেগ কমে দাঁড়ায় ঘণ্টায় ২১১ কিলোমিটারে। পরে আবার কিছুটা উচ্চতা অর্জনের চেষ্টা করলেও অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি সম্পূর্ণ রাডারের বাইরে চলে যায়।
পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে বিমানটি করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, বিমানটিতে থাকা পাঁচজন ক্রু হলেন—পাইলট মুহাম্মদ রিজওয়ান ইদ্রিস, ফার্স্ট অফিসার ফয়সাল মেহমুদ, লোডমাস্টার মুহাম্মদ তৌফিক, প্রকৌশলী আরিফ সিদ্দিকী এবং ক্রু সদস্য মুহাম্মদ হামিদ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি দ্রুত উচ্চতা হারানোর সময় পাইলট কোনো ‘মে-ডে’ (Mayday) জরুরি সংকেত পাঠাতে পারেননি।
এদিকে, তদন্তের স্বার্থে বিমানটির মালিক প্রতিষ্ঠানের করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসংলগ্ন সদরদপ্তর সিলগালা করেছে কর্তৃপক্ষ, যাতে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো নথি বা তথ্য নষ্ট না হয়।
নিখোঁজ বিমানের সন্ধানে পাকিস্তান নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ পিএনএস জুলফিকার ও পিএনএস হুনাইন (Hunain) মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিমানবাহিনীর নজরদারি উড়োজাহাজও অনুসন্ধান অভিযানে অংশ নিয়েছে। নিখোঁজ বিমানটির অবস্থান শনাক্তে আরব সাগরের সম্ভাব্য এলাকায় জোরালো তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: জিও নিউজ