স্পোর্টস ডেস্ক:
‘ইউক্রেনের শত্রু’ হিসেবে পরিচিত একটি ডেটাবেজে নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন লিভারপুলের হাঙ্গেরিয়ান ডিফেন্ডার মিলোস কেরকেজ। একই তালিকায় তার বাবা সেবাস্তিয়ানের নামও যুক্ত করা হয়েছে।
উয়েফা নেশনস লিগের একটি ম্যাচে মাঠের উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেরকেজের বাবার একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে এ বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
নেশনস লিগের প্রথম রাউন্ডে ইউক্রেনের কাছে ১-০ গোলে হারে হাঙ্গেরি। ম্যাচে ইউক্রেনের মিডফিল্ডার ভিক্টর সিগাঙ্কোভের সঙ্গে হাঙ্গেরির অধিনায়ক ডোমিনিক সোবোসলাইয়ের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। এ সময় কেরকেজ দ্রুত এগিয়ে এসে নিজের লিভারপুল সতীর্থ সোবোসলাইকে রক্ষা করেন। একপর্যায়ে তিনি সিগাঙ্কোভের কলার ধরে ফেলেন।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে কেরকেজের বাবা সেবাস্তিয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ঘটনার একটি ছবি পোস্ট করার পর। পোস্টে রাশিয়ান র্যাপার একে-৪৭-এর ‘রাশিয়ান প্যারাডাইস’ গান ব্যবহার করা হয়েছিল, যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচিত হয়।
এরপর মিরোতভোরেৎস নামের একটি ডেটাবেজে কেরকেজ ও তার বাবার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই ডেটাবেজে ইউক্রেনের শত্রু হিসেবে বিবেচিত বিভিন্ন ব্যক্তির তথ্য রয়েছে। তবে এটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত একটি প্ল্যাটফর্ম এবং ইউক্রেন সরকারের সঙ্গে এর আনুষ্ঠানিক কোনো সম্পর্ক নেই।
বিষয়টি নিয়ে নীরব থাকেননি কেরকেজ। হাঙ্গেরিয়ান সংবাদমাধ্যম টেলেক্সকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে দূরে রাখার কথা জানান। তার দাবি, মাঠের ঘটনায় তিনি কেবল নিজের অধিনায়ক ও বন্ধুকে রক্ষা করতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে গিয়েছিলেন।
কেরকেজ বলেন, তিনি জীবনে কখনো কোনো ধরনের আগ্রাসন সমর্থন করেননি এবং অন্যের ক্ষতি করে এমন কোনো কর্মকাণ্ডকে গ্রহণযোগ্য মনে করেন না। তার ভাষ্য, ফুটবল ম্যাচে উত্তেজনা থাকা স্বাভাবিক এবং ইউক্রেনের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি শুধু নিজের অধিনায়ককে রক্ষা করেছেন। প্রতিপক্ষ অন্য কোনো দেশ হলেও তিনি একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন বলে জানান।
নিজের বাবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের দায়ও নিতে চান না কেরকেজ। তিনি বলেন, তার বাবা আলাদা একজন ব্যক্তি এবং বাবা কোনো কিছু করলে তার কাজের জন্য তিনি দায়ী হতে পারেন না।
এদিকে কেরকেজ ও তার বাবার নাম ওই ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করার ঘটনায় হাঙ্গেরিতে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। হাঙ্গেরির পক্ষ থেকে বিষয়টির নিন্দা জানানো হয়েছে এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।