আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের তেল কোম্পানিগুলো বিপুল অর্থ আয় করছে। তবে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার ভাবছেন না বলেও জানান। শুরুতে যুদ্ধ চার থেকে ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছিলেন তিনি। তবে যুদ্ধ শুরুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর অবসানের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দামও বেড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার মিশিগানে প্রতি গ্যালন পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ৮৩ ডলার। যুদ্ধ শুরুর আগে এ দাম ছিল ২ দশমিক ৯১ ডলার। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন সীমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
তবে জ্বালানির দাম বাড়ার বিষয়টিকে যুদ্ধের সিদ্ধান্তের জন্য অনুশোচনার কারণ হিসেবে দেখছেন না ট্রাম্প। তিনি বলেন, তাঁর ধারণা ছিল পেট্রলের দাম আরও বেশি বাড়তে পারে। যুদ্ধ শুরুর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি ইরানকে ‘সন্ত্রাসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
ইরান অবশ্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না। অন্যদিকে, ট্রাম্প এর আগে দাবি করেছিলেন, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস হয়ে গেছে’।
ট্রাম্পের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির চাহিদা বেড়েছে এবং ক্রেতারা যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওকলাহোমা ও লুইজিয়ানা থেকে তেল সংগ্রহ করছেন। এতে মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর আয় বাড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, তাঁর উপদেষ্টারা যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লাভের বিষয়টি প্রকাশ্যে তুলে না ধরার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কারণ, জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে সাধারণ মানুষকে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সমালোচনার আশঙ্কা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক লাভের কথা তিনি প্রকাশ্যে বলবেন বলে জানান।