ঈদগাঁওয়ে বিরোধপূর্ণ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন, আপোষ-মীমাংসায় জেলা লিগ্যাল এইডের উদ্যোগ

আব্দুল গফুর:

কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার উত্তর মাইজপাড়া এলাকায় বৃদ্ধা দিলদার বেগম ও প্রবাসী হাফেজুর রহমানের পরিবারের মালিকানাধীন এবং দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও চিফ লিগ্যাল এইড সিনিয়র সিভিল জজ অভিজিৎ চৌধুরী। পরিদর্শন শেষে বিরোধপূর্ণ জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকা, শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে নিজ নিজ বর্তমান দখলীয় অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানাধীন জমির অংশ থেকে প্রায় ১৫ বছর আগে উত্তর মাইজপাড়া এলাকার মোস্তাক আহমদের কন্যা ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে বৈধভাবে ৫ শতক জমি ক্রয় করেন আব্দুর রহমানের স্ত্রী দিলদার বেগম। জমি ক্রয়ের পর থেকে দিলদার বেগম ও প্রবাসী হাফেজুর রহমানের পরিবার যৌথভাবে জমিটি চাষাবাদ করে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ৫ জুলাই একই এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে জসিম উদ্দিন তাদের খতিয়ানভুক্ত ও ভোগদখলীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বহিরাগত লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা, ভাঙচুর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করেন তারা।

অপরদিকে, এ ঘটনায় জসিম উদ্দিন গত ৯ জুন জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের মাধ্যমে চিফ লিগ্যাল এইড সিনিয়র সিভিল জজের নিকট একটি আবেদন করেন। এতে দিলদার বেগম ও তাঁর ছেলে শাহাব উদ্দিনকে প্রতিপক্ষ করা হয়। বিষয়টি আমলে নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার সরেজমিনে নালিশি জমি পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনের সময় তিনি বিরোধপূর্ণ জমির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। একই সঙ্গে বিরোধ আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে আপোষ-মীমাংসার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার অভিজিৎ চৌধুরী বলেন, আদালতের বাইরে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির এই উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী ও মানবিক পদক্ষেপ। এতে দীর্ঘ আইনি জটিলতা হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি উভয় পক্ষের সময়, অর্থ ও পারস্পরিক সম্পর্ক রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মুরুব্বিরাও জেলা লিগ্যাল এইডের এ উদ্যোগকে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সরেজমিন পরিদর্শনের সময় আবেদনকারী জসিম উদ্দিনকে উত্তেজিত অবস্থায় দেখা যায় বলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান। তাঁদের ভাষ্য, তিনি প্রতিপক্ষ শাহাব উদ্দিনের দেওয়া ঘেরা-বেড়া অপসারণের জন্য বারবার আদালতের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছিলেন। তবে এ সময় তাঁর আচরণ উপস্থিত লোকজনের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।

পরিদর্শন শেষে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার উভয় পক্ষকে স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কেউ জোরপূর্বক দখল পরিবর্তনের চেষ্টা করতে পারবেন না এবং যে যার বর্তমান দখলীয় অবস্থানে থাকবেন। পাশাপাশি নালিশি ভূমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *