নিজস্ব প্রতিবেদক ::
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি (ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নিজস্বভাবে বিশ্লেষণ করেছে এবং যেসব বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন ছিল, সেসব বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে ব্যাখ্যাও নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর এনসিপি কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সফর শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তির বিভিন্ন দিক এনসিপি নিজস্বভাবে পর্যালোচনা করেছে। যেসব বিষয়ে প্রশ্ন ছিল, সেগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে এবং সেসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।
তিনি জানান, এই ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার আগে এনসিপির সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। বিষয়টি দলটি আগেও স্পষ্ট করেছে এবং বৈঠকেও একই অবস্থান জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এনসিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, এটি তাদের দলের কাছে ‘নন-নেগোশিয়েবল’ বা আপসহীন একটি বিষয়। এ লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে ও বাইরে দলটি ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছেও এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
তিনি বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন করে। তবে সেই সংস্কার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোই। একই সঙ্গে সরকার, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের নিয়মিত আলোচনা চলছে বলেও তারা জানিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে থাকাকালে এই বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। তিনি পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সরকারের ভেতরে থেকে বিষয়টি জানার বা মতামত দেওয়ার সুযোগ তার ছিল না।
তিনি দাবি করেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল—এমন ব্যাখ্যা বিভিন্ন পক্ষ থেকেই পাওয়া গেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য ও বিভ্রান্তির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, সত্য-মিথ্যা মিলিয়ে নানা ধরনের প্রচারণা চলছে। এ কারণে জনগণের মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে সরকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস—উভয়েরই আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন, যাতে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ না থাকে।
এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার উদ্যোগ এবং দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।