আব্দুর রশিদ:
সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলা সদরের কুশুলিয়া ইউনিয়নের বাজার গ্রামে একটি হিন্দু পরিবারের ওয়ারিশ গোপন করে ৭০ শতক জমি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করে আত্মসাতের ৪ লাখ টাকা প্রতারক আকমল ও সবুর গংয়ের পকেটে গেছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। জমির ক্রেতা আব্দুল জব্বার নিঃস্ব হয়ে বিচারের দাবিতে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। অন্যদিকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচতে জমির ক্রেতা আব্দুল জব্বারকে ‘সুদখোর’ আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতারক আকমল গংয়ের বিরুদ্ধে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় কুশুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, ইউপি সদস্য আবু মুসা, খাইরুল ইসলাম ও আকলিমা খাতুন এই প্রতিনিধিকে জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোটিশ দিলে প্রতারক আকমল হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করে পরে লাপাত্তা হয়ে যায়।
বাজার গ্রামের রহিমপুর এলাকার মৃত মনুর আলী গাজীর পুত্র ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বারের অভিযোগ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার বাজার গ্রামের মৃত আজগার আলীর পুত্র প্রতারক আকমল হোসেন এবং সবুর হালদার মিলে একই গ্রামের মৃত পঞ্চানন হালদারের ৫ পুত্র ও ১ কন্যার মালিকানাধীন ৭০ শতক জমি বিক্রির জন্য আব্দুল জব্বারকে প্রস্তাব দেয়।
ওই সময় মৃত পঞ্চাননের ওয়ারিশরা হলেন—নিমাই হালদার, সন্ন্যাসী হালদার, গোবিন্দ হালদার, অশোক হালদার, দয়াল হালদার এবং একমাত্র কন্যা প্রতিমা বিশ্বাস। এর মধ্যে তথ্য গোপন করে কুশুলিয়া ইউনিয়নের গাজী দুর্গাপুর মৌজার এসএ ৪৪ ও ৬৬ নম্বর খতিয়ানের ৮, ৯ ও ১০ নম্বর দাগে ৭০ শতক জমি আজমল সাক্ষী (সনাক্তকারী) রেখে সন্ন্যাসী হালদার এবং মৃত নিমাই হালদারের পুত্র অনিপ হালদারকে দাতা সাজিয়ে বাকি ৪ জন ওয়ারিশকে ফাঁকি দিয়ে গত ২৮/০৭/২০২৫ তারিখে ৩৬০২ নম্বর কবলা দলিলে রেজিস্ট্রি করে দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রতারক আকমল জমিদাতা সন্ন্যাসী হালদার ও অনিপ হালদারকে ৬ লাখ টাকা দিয়ে বাকি ৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ক্রেতা আব্দুল জব্বার জমির মিউটেশন/নামজারি সম্পন্ন করে ভাটা মালিক রিয়াজুল ইসলামের মৎস্য ঘেরে জমি দখলে থাকায় জমির হাড়ি (লিজ) টাকা নিতে গেলে প্রকৃত মালিকানার বিষয়টি প্রকাশ পায়।
ওই সময় প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়লে জমির রেজিস্ট্রি করে দেওয়া সন্ন্যাসী হালদার ও অনিপ হালদার জানান, তারা প্রতারক আকমলের কাছ থেকে নেওয়া ৬ লাখ টাকা ফেরত দিতে রাজি আছেন। কিন্তু প্রতারক আকমল বাকি ৪ লাখ টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জমির ক্রেতা আব্দুল জব্বারকে ‘সুদখোর’ আখ্যা দিয়ে জামাল হোসেন নামে এক আইনজীবীর মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে নোটিশ দিলে আকমল একদিন হাজির হয়ে সময়ের আবেদন করে পরে আর উপস্থিত হয়নি। জমি বিক্রির নামে প্রতারণার ঘটনা সত্য বলে তিনি স্বীকার করেন এবং প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।