কলমের কালি শুকায়নি, লড়াইও থামেনি— জাফর-ইমনের নেতৃত্বে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জাগছে প্রতিরোধের জোয়ার

মোঃআনজার শাহ:-

যে দেশে সত্য লেখার পুরস্কার হয় কারাগার, যে দেশে নিরীহ সাংবাদিকের বুকে গিয়ে বিঁধে মিথ্যা মামলার বিষতীর, যে দেশে কলম ধরার অপরাধে ভেঙে পড়ে একেকটি স্বপ্নের সংসার, সেই দেশেই আজ উচ্চারিত হলো প্রতিরোধের সবচেয়ে দৃপ্ত শপথ। অন্ধকারের বুক চিরে উঠল নতুন সূর্য। শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর দুইটায় অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক ভার্চুয়াল সভায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে আহমেদ আবু জাফর এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলী আজগর ইমন আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত হয়েছেন। দেশের প্রতিটি কোণ থেকে সাংবাদিকদের উত্তাল ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত এই সভাশেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জাতিকে এই ঐতিহাসিক সুসংবাদ জানানো হয়।

জাফর-ইমন — দুই অপরাজেয় কলমযোদ্ধার হাতে প্রতিরোধের হাল
সংগ্রামের এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে নেতৃত্বের গুরুদায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে দেশের সাংবাদিকতা অঙ্গনের দুজন পরীক্ষিত, নির্ভীক ও বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্বের কাঁধে, যাঁরা সারাজীবন কলম ধরেছেন সত্যের পক্ষে, রুখে দাঁড়িয়েছেন প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং কখনো মাথানত করেননি অবিচারের কাছে।

সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছেন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে অসংখ্য ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে আসা এই দৃঢ়চেতা সংগঠক সর্বদা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, দূরদর্শিতা ও নেতৃত্বের তেজ সংগঠনকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, এমন দৃঢ় প্রত্যয় সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী সকলের।

সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনীত হয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আলী আজগর ইমন। মাঠের কঠিন ও বন্ধুর বাস্তবতায় পোড়খাওয়া এই সাহসী সাংবাদিক তাঁর অসাধারণ পেশাদারিত্ব, অদম্য মনোবল ও তীক্ষ্ণ সাংগঠনিক প্রজ্ঞা দিয়ে কমিটিকে একটি অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে রূপান্তরিত করবেন বলে বিশ্বাস করেন সংশ্লিষ্ট সকলে।
১৫১ জনের ইস্পাতদৃঢ় বাহিনী — নির্যাতনকারীদের জন্য কড়া সতর্কবার্তা

জাফর-ইমনের মনোনয়ন কেবল প্রথম পদক্ষেপ, মূল অভিযান সামনে। সংগঠনের পক্ষ থেকে দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করা হয়েছে — শীঘ্রই মাঠে নামছে ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল। ইতোমধ্যে একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকে কমিটির পূর্ণ রূপরেখা প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি সকল পদে যোগ্য, নিবেদিতপ্রাণ ও সাহসী ব্যক্তিদের দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। এই বিশাল ও শক্তিশালী কমান্ড কাউন্সিল গঠিত হলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সম্পূর্ণ নতুন ও অপ্রতিরোধ্য মাত্রা পাবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
আইনজীবী থেকে ইমাম, চিকিৎসক থেকে শ্রমিক — সমাজের সর্বস্তর আজ একই পরিখায়
এই সংগঠনের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৈপ্লবিক বৈশিষ্ট্য হলো এর গভীরভাবে সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় চরিত্র। এটি কেবল কোনো একটি পেশাজীবী সংগঠন নয় — এটি সমাজের প্রতিটি বিবেকবান, সচেতন ও দেশপ্রেমিক মানুষের মিলিত প্রতিরোধের সর্বোচ্চ জাতীয় মঞ্চ।

কমিটিতে সাংবাদিকদের পাশাপাশি অন্তর্ভুক্ত হবেন আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্র নেতা, এনজিও প্রতিনিধি, আইটি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক নেতা এবং মানবাধিকার কর্মীরা। সমাজের এই বহুমাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় অংশগ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য উন্মোচন করে, সাংবাদিক নির্যাতন কোনো বিচ্ছিন্ন পেশাগত সমস্যা নয়, এটি গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মৌলিক মানবাধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। সেই আঘাতের জবাব দিতে আজ পুরো সমাজ একই পরিখায় এসে দাঁড়িয়েছে।
করোনার অমানিশায় জন্ম  পাঁচ বছরের লড়াই শেষে জাতীয় রূপ
ইতিহাস সাক্ষী, সংকটের গভীর অন্ধকারেই জন্ম নেয় সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ। ২০২০ সালে যখন করোনা মহামারির ভয়াল ছোবলে গোটা দেশ বিপর্যস্ত, ঠিক সেই দুর্যোগের মাঝেই বাংলাদেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। সেই ক্রান্তিলগ্নে প্রতিরোধের অদম্য সংকল্প বুকে নিয়ে আত্মপ্রকাশ করে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ।
সেই থেকে পাঁচ বছরের অক্লান্ত ও নিরলস পথচলায় দেশের জেলায় জেলায় শাখা কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটি তৃণমূল পর্যন্ত তার শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত করেছে। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের সহযোগী সংগঠন হিসেবে এটি মাঠ পর্যায়ে নিরন্তর সক্রিয় ও প্রাসঙ্গিক থেকেছে। আজকের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠন সেই দীর্ঘ, কণ্টকাকীর্ণ ও গৌরবময় সংগ্রামী যাত্রার এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

বিশ্বস্ত সূত্রে নিশ্চিত,
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সংগঠনের থিম সংয়ের রচয়িতা সুমন তালুকদার এ সংক্রান্ত সমস্ত তথ্যের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
“কলমের কালি কখনো শুকায় না, সত্যের আলো কখনো নেভে না আহমেদ আবু জাফর ও আলী আজগর ইমনের নেতৃত্বে এই প্রতিরোধের আগুন জ্বলতে থাকবে অনন্তকাল, নির্যাতনকারীরা যতই চেষ্টা করুক এই শিখা নেভাতে।”
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *