কলি ধর্ষণ-হত্যা: আসামির বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর

পাবনা প্রতিনিধি:

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়া গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার আসামি মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁর বহুতল ভবনের বিভিন্ন অংশে ভাঙচুর করা হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশু কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বৃহস্পতিবার পাবনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে কুলোনিয়া গ্রামের বিভিন্ন এলাকার লোকজন একত্রিত হয়ে মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়ির সামনে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা বাড়িটির বিভিন্ন অংশে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ভবনটিতে ভাঙচুর চালানো হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

ভাঙচুরে অংশ নেওয়া কয়েকজনের ভাষ্য, একটি শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তারা ক্ষুব্ধ। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে আগে থেকেই পুলিশ সদস্যরা অবস্থান করছিলেন। তবে গ্রামবাসীর তুলনায় পুলিশের সংখ্যা কম থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙচুর ঠেকানো সম্ভব হয়নি। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ জানিয়েছে, শিশু কলি ধর্ষণ ও হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার মোস্তফা প্রামাণিক ও ইয়াছিন আলীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

নিখোঁজের সাত দিন পর গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে কুলোনিয়া গ্রামে তাদের বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কলির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং কলির প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তাঁর ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে।

বৃহস্পতিবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাবনার পুলিশ সুপার মো. আশ্রাফ আলী বলেন, তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন মোস্তফা প্রামাণিকের মুদি দোকানের পেছনের একটি ঘরে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে রাখা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনা আড়াল করার উদ্দেশ্যে আসামিরা নিজেরাই কলিকে খুঁজতে বের হন। এমনকি শিশুটিকে উদ্ধারের দাবিতে এলাকাবাসীর মানববন্ধন ও তল্লাশি কার্যক্রমেও তারা অংশ নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের এই বক্তব্য প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ লোকজন মোস্তফা প্রামাণিকের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালান।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *