কার ভাগ্যে নাঃগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসকের তিলক?

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে আন্দোলন ও সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য মামলা, হামলা, গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার পর, ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর বিএনপি নেতারা অনেকটাই স্বস্তিতে আছেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী জোটকে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি।

সরকার গঠনের ১৫ দিনও অতিবাহিত হয়নি, হাই কমান্ড ইতোমধ্যে রাজপথে ত্যাগী নেতাদের ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন শুরু করেছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জেও নাসিকের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান। স্থানীয় নেতারা ত্যাগী নেতাদের এই মূল্যায়নকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজপথে থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি হাই কমান্ড নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনে অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, ৩ আসনে আজহারুল ইসলাম মান্নান, ২ আসনে নজরুল ইসলাম আজাদ ও ১ আসনে মোস্তাফিজুর রহমান দিপুকে মনোনয়ন দিয়ে সম্মান দিয়েছে। এ সম্মান রক্ষা করে মনোনিত প্রার্থীরা হাই কমান্ডের হাতে জয়ের মালা তুলে দিয়ে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থান প্রকাশ করেছেন।

এরপর ধারাবাহিকভাবে রাজপথের নেতাদের মূল্যায়ন করতে নারায়ণগঞ্জের জেলা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে আরও দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে জেলা পরিষদের প্রশাসকের পদে নিয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে উত্তাল থাকলেও, আলোচনায় থাকা নামগুলোর মধ্যে স্থানীয় বিএনপির সিনিয়র নেতা অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে আছেন।

অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু ১৯৯১ সালের ছাত্রদলের কমিটি থেকে রাজনীতির পথচলা শুরু করেন। তিনি জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে স্থানীয় রাজনীতিতে প্রজন্মগুলোর নেতৃত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার নেতৃত্বে গঠিত ছাত্রদল থেকে উঠে এসেছে বর্তমান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীব, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম সজল সহ বহু নেতৃবৃন্দ।

২০১৭ সালে মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি দলের হাই কমান্ডের আস্থা অর্জন করে বর্তমানে মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে দায়িত্বে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে নাসিকের ১৭টি ওয়ার্ড, ৭টি ইউনিয়ন, দুটি থানা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কমিটি পুনর্গঠিত হয়েছে।

রাজনীতির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ ও নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার কারণে জেলা পরিষদের প্রশাসক পদে তার নিয়োগ রাজনৈতিক মহলে প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সরকারের পক্ষ থেকে আসা বাকি রয়েছে।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কার ভাগ্যে পড়বে জেলা পরিষদের প্রশাসকের তিলক? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় নেতা হিসেবে দায়িত্বশীল ও রাজপথে সংগ্রামের অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপুর হাতে এই পদটি আসতে পারে।

সরকারি সিদ্ধান্ত ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা কবে আসবে তা এখন সময়ের ব্যাপার। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে যে, দায়িত্ব ও যোগ্যতার বিচারে টিপু এই পদে সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *