মোঃ আনজার শাহ:
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় প্রায় দুইশত বছরের প্রাচীন তিনটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে। ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দুপুরে দক্ষিণ খোশবাস ইউনিয়নের চালিয়া গ্রামে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন তারা।
গত ১৩ জানুয়ারি গভীর রাতে চালিয়া গ্রামের কালীমন্দির, শীতলামন্দির এবং দোলমন্দিরে হামলা চালানো হয়। এতে দোলমন্দিরটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। কালীমন্দিরের পেছনের অংশ খনন করে ফেলায় মন্দিরটি এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তারা জানান, মন্দিরগুলোর জন্য গ্রামের জীবন বাবু নামে এক ব্যক্তি বহু বছর আগে প্রায় ছয় শতক জমি দান করেছিলেন। তবে সংলগ্ন জমি ক্রয়ের পর থেকেই মন্দিরগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। একাধিক শালিস হলেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে মন্দির ভেঙে ফেলা হয়।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রবীন্দ্র ভক্ত বলেন, “প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এখানে তিনটি মন্দির ছিল। আমাদের গ্রামে কখনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছিল না। এই ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি এখানে হিন্দু ভাইয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। এই অন্যায় ঘটনা আমরা মেনে নিতে পারি না।”
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া পলাশ ভক্ত বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না, শান্তিতে একসাথে থাকতে চাই। আমাদের দাবি, মন্দিরগুলো যেন আগের স্থানেই পুনর্নির্মাণ করা হয়।”
ঘটনার রাতেই চালিয়া শীল বাড়ির বাসিন্দা সঞ্চিত শীল বরুড়া থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আবদুল্যাহ আল ফাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।
বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজহারুল ইসলাম জানান, “ঘটনার পরপরই আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং আইনগতভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মন্দিরগুলো দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে টিকে ছিল। ঘটনাটি এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিঘ্নিত করেছে। স্থানীয় হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার এবং মন্দিরগুলোর পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।