কেইনের রেকর্ড-ক্ষুধাই তাকে আলাদা করেছে: টুখেল

স্পোর্টস ডেস্ক:

দলের জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত রেকর্ড ও মাইলফলক অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষাই হ্যারি কেইনকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে বলে মনে করেন ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ার পথে থাকা কেইনের এই মানসিকতাকেই তাঁর ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ইংল্যান্ড কোচ।

মঙ্গলবার ওয়েম্বলিতে চেকিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মাঠে নামার কথা রয়েছে কেইনের। ম্যাচটিতে খেললে ইংল্যান্ডের জার্সিতে তাঁর আন্তর্জাতিক ম্যাচের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৫-এ। এর মাধ্যমে সাবেক গোলরক্ষক পিটার শিল্টনের ১২৫ ম্যাচের রেকর্ডে ভাগ বসাবেন তিনি।

৩৩ বছর বয়সী কেইন এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। সর্বশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ৭-০ গোলের জয়ে জোড়া গোল করেন তিনি। এতে জাতীয় দলের হয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৮৯-এ।

কেইনের রেকর্ড গড়ার এই ধারাবাহিকতার পেছনে ব্যক্তিগত অর্জনের ক্ষুধাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন টুখেল। তাঁর মতে, বিশ্বমানের স্ট্রাইকারদের মধ্যে নিজেদের পরিসংখ্যান ও রেকর্ড সমৃদ্ধ করার আলাদা তাড়না কাজ করে।

টুখেল বলেন, ‘আমি মনে করি, বিশ্বের সব নাম্বার নাইনই একটু অন্যভাবে তৈরি। তারা শুধু চায় না তাদের দল জিতুক, তারা নিজেদের জন্যও করে, রেকর্ডের জন্যও করে। আমি কত গোল করতে পারি, কত অ্যাসিস্ট করতে পারি, লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা কে, কাকে আমাকে পেরোতে হবে, পরের রেকর্ড কোনটি—এসব ভাবনা তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়।’

ইংল্যান্ড কোচ মনে করেন, বড় মাপের গোলদাতাদের নিজেদের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য না থাকলে তারা সর্বোচ্চ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে পারফর্ম করতে পারেন না। ব্যক্তিগত অর্জনের আকাঙ্ক্ষাই তাদের নিজেদের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।

কেইন প্রসঙ্গে টুখেল বলেন, ‘এমন মানের কোনো গোলদাতা আপনি পাবেন না, যার এমন ব্যক্তিগত লক্ষ্য নেই এবং যা তাকে নিজের সীমায় ঠেলে দেয়। এটাই তাকে তাড়িত করে। হ্যারি এভাবেই তৈরি।’

জাতীয় দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডের পর এবার সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডেও শিল্টনের পাশে নাম লেখানোর অপেক্ষায় রয়েছেন কেইন। মঙ্গলবারের ম্যাচটি তাই তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *