গুলশান-বনানী ও হাতিরঝিল লেক রক্ষায় মাঠে নামল রাজউক, ৬ মাসের মধ্যে স্যানিটেশন নিশ্চিতের নির্দেশ

মোঃআনজার শাহ

গুলশান-বনানী ও হাতিরঝিল লেকের পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়নে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি অভিপ্রায় অনুসারে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) সোমবার (২ জুন) কালাচাঁদপুর এলাকা থেকে একটি বিশেষ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হওয়া এই পরিদর্শনে লেকের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় পূর্ণাঙ্গ স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

স্যুয়ারেজ বর্জ্যই প্রধান সমস্যা,

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, এমপি বলেন, লেকসমূহে স্যুয়ারেজ লাইনের বর্জ্য পানি প্রবেশের কারণে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এলাকায় এসটিপি (STP) ও সেপটিক ট্যাংকসহ প্রয়োজনীয় স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

লেকে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, চাই জনসচেতনতা,

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, লেকে যেকোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করতে হবে। এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নগরবাসীর সক্রিয় সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে লেক এলাকায় মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করে তা নির্মূলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে রাজউক ও ঢাকা সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

রেস্টুরেন্ট ইস্যুতে আইনি পদক্ষেপ চলমান,

লেক এলাকায় রেস্টুরেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা প্রসঙ্গে রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আদালতের রায় এবং রাজউকের ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (DAP) অনুযায়ী পরবর্তী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

পরিদর্শনে রাজউকের চেয়ারম্যানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর লেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে দূষণের শিকার। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল পরিদর্শন নয়, দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়নই পারে এই লেকগুলোকে প্রাণ ফিরিয়ে দিতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *