গৌরীপুরে মানিকের বাড়িতে ডাকাতি না ‘নাটক’

মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে একটি অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মৃত আঃ সেলিম মিয়ার ছেলে মোঃ মানিক মিয়া দাবি করেছেন, গত ৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অচেতন করে প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। মানিক মিয়া ও তার পরিবার প্রতিপক্ষ একই বাড়ির চাচাতো ভাই মোঃ জালাল মিয়া ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলে।

দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের জের

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিক মিয়া ও জালাল মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় দুই দিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনাও ঘটে বলে জানা গেছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা নিয়ে এলাকায় নানা ধরনের আলোচনা চলছে।

ভুক্তভোগী মানিক মিয়ার দাবি, পূর্ব বিরোধের জের ধরেই তার প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।

গ্রাম্য সালিশেও হয়নি সমাধান

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে গ্রাম্য সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো পক্ষই নির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় বিষয়টির সমাধান হয়নি বলে জানা যায়। ফলে বিরোধ আরও জটিল আকার ধারণ করে।

পরবর্তীতে মোঃ মানিক মিয়া গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে প্রতিপক্ষ মোঃ জালাল মিয়া সহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়।

মানববন্ধন ঘিরে নতুন বিতর্ক

অভিযোগ দায়েরের পর এলাকায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। অভিযোগপত্র প্রত্যাহার বা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বাদীপক্ষের লোকজন মানববন্ধন আয়োজন করে বলে জানা গেছে। তবে এই মানববন্ধন নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্তের সুযোগ না দিয়ে জনসম্মুখে চাপ সৃষ্টি করা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।

আসামিপক্ষের পাল্টা অভিযোগ

অন্যদিকে অভিযুক্ত জালাল মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, মূলত একটি ছাগল হারানোকে কেন্দ্র করে ঘটনাকে “বড় আকার দিয়ে নাটক সাজানো হয়েছে” এবং উদ্দেশ্য হলো অর্থ আদায় ও হয়রানি করা।

তাদের আরও অভিযোগ, মানিক মিয়া ও তার লোকজন তাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছে, এতে নারীসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

জমি দখল ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জালাল মিয়ার পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, মানিক মিয়া জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা করছেন এবং প্রভাব খাটিয়ে হয়রানি চালাচ্ছেন। অন্যদিকে মানিক মিয়ার পক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্বপরিকল্পিত ডাকাতির অভিযোগেই অনড় রয়েছে।

এলাকায় আতঙ্ক, প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা

ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটতে পারে।

উভয় পক্ষই বর্তমানে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং উভয় পক্ষই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা যায় এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।

পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে অবস্থায় রয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর পুরো এলাকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *