মোঃ হাসান আলী:
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় সরকারি খাস জমি দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উপজেলার লক্ষিন্দর ইউনিয়নের কাজলা দক্ষিণপাড়া ফকির মার্কেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং প্রশাসনও ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই এলাকার আজিমুদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাস জমি ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি জমিটির ওপর স্থায়ীভাবে দখল প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সেখানে ঘর নির্মাণ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, আগে জমিটি চাষাবাদের কাজে ব্যবহার করা হলেও এখন তা পুরোপুরি দখলের জন্য স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, জমিটি সরাবাড়ি মৌজার অন্তর্গত এবং ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। এস এ দাগ নম্বর ২৬০৪ এবং হাল দাগ ৭০৪৭ অনুযায়ী মোট ২.০৬ একর জমি সরকারি খাস হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছে।
রসুলপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম (বিপ্লব) জানান, “সরাবাড়ি মৌজার ২৬০৪ নম্বর দাগের ২.০৬ একর জমি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত সরকারি সম্পত্তি। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। দ্রুতই এসিল্যান্ড মহোদয়কে অবগত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, শহিদুল ইসলামের বাবা আজিমুদ্দীন পূর্বে জমিটি ভোগদখলে রাখতেন। সেই সূত্র ধরেই শহিদুল এখন জমিটি নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং স্থায়ীভাবে দখল নিতে ঘর নির্মাণ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি খাস জমিতে ঘর তুলেছি, তবে এই জমি আমাদের বাপ-দাদারা দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করে আসছেন। সেই হিসেবে আমিও ব্যবহার করছি।”
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য জানান, “সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে সেখানে ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনা হয়েছে।”
ঘাটাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, “অভিযোগটি তদন্তের জন্য নায়েবকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, আবার কেউ বলছেন দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমির সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। তবে সরকারি খাস জমি রক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।