নিজস্ব প্রতিবেদ:
জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের কাজ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় ঠিকাদার গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারকাজ শুরু হলো।
রোববার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান শুনানি শেষে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর রেজাউল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দরপত্রে জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটি টাকার কাজ নেওয়ার অভিযোগে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পটির কাজ পেতে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স–জিকেবিএল (জেভি) প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নেয়।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, দরপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া বিভিন্ন কাগজপত্রে জালিয়াতি এবং কোম্পানিসংক্রান্ত তথ্য পরিবর্তন করা হয়। প্রকৃত নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের নাম যুক্ত করে নিবন্ধন দেখানো হয়। পাশাপাশি নিবন্ধিত শেয়ারের চেয়ে বেশি শেয়ার দেখিয়েও দরপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া কাজ পাওয়ার জন্য ১০ বছরের অভিজ্ঞতা, গত পাঁচ বছরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করার সনদ এবং নির্ধারিত টার্নওভারের শর্ত পূরণে ভুয়া কাগজপত্র জমা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের মামলায় বলা হয়, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে দি বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স–জিকেবিএল (জেভি) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ একাডেমিক ভবন তথা দ্বিতীয় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের কাজ পায়।
পরবর্তীতে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য পাঠায় দুদক। যাচাইয়ে জালিয়াতির তথ্য পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
এ মামলায় ২০২১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জি কে শামীমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরে ২০২৩ সালে তিনি জামিন পান।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে জি কে শামীমের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায় র্যাব। ওই অভিযানে বিপুল পরিমাণ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধার করা হয়। এ সময় জি কে শামীম ও তাঁর সাত দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় জি কে শামীমের সাজা হয়েছে।