স্বাধীন সংবাদ ডেস্ক:
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দ্রুত কার্যকর করা।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন,
“জামায়াত ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবসমূহের পূর্ণ বাস্তবায়ন চায়। সে জন্য আগামীকাল (৩১ অক্টোবর) এর মধ্যেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করতে হবে। সরকার চাইলে আজ (৩০ অক্টোবর) রাতের মধ্যেই সেটি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সময়ক্ষেপণ না করে অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ জারি না করলে জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি তৈরি হবে।
তাহের বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির পর গণভোট আয়োজন করা জরুরি। ঐকমত্য কমিশন সরকারের কাছে যে সুপারিশ দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে— জাতীয় নির্বাচনের আগে বা নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজন করা যেতে পারে। তবে জামায়াত মনে করে, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হলে ভোটার ও রাজনৈতিক দলগুলোর মনোযোগ বিভক্ত হয়ে যাবে, ফলে গণভোটের গুরুত্ব কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন,
“গণভোটের পর ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। এমন কোনো বিতর্ক বা বিষয় সামনে আনা যাবে না, যার কারণে নির্বাচনী প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তায় পড়ে।”
সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলটির নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম এবং হামিদুর রহমান আযাদ।
জামায়াত নেতারা বলেন, সময় এসেছে জনগণের হাতে রাষ্ট্র সংস্কারের সিদ্ধান্ত ফিরিয়ে দেওয়ার— আর গণভোটই সেই পথের প্রথম ধাপ।