জিপিএ-৫ সাফল্যের শেষ নয়, সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ : ডাকসু জিএস ফরহাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের চূড়ান্ত অর্জন মনে না করে ভবিষ্যতের জন্য আরও কঠোর প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) জিএস এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, “জিপিএ-৫ পাওয়াকে জীবনের আলটিমেট অর্জন মনে করবেন না। সামনে আরও কঠিন যাত্রা আছে। এখন বিনয়ী হয়ে এক পয়েন্টে চেষ্টা করতে হবে।” বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে মমতাজ কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনোয়ারা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাফেজ সাইফুদ্দিন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি রিয়াদুল এরশাদ।

এসএসসির ফলাফলই শেষ কথা নয়

ডাকসু জিএস ফরহাদ বলেন, এসএসসির ফলাফল সফলতার শেষ ধাপ নয়; বরং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গড়ার প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেও অনেকে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত সুযোগ নাও পেতে পারেন। আবার জিপিএ-৫ না পাওয়া শিক্ষার্থীরাও কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো অবস্থান তৈরি করতে পারেন। nঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রতিযোগিতার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সীমিত। তাই এসএসসির ফলাফল নিয়ে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, এসএসসির পরের দুই বছর শিক্ষার্থীদের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত ইন্টারমিডিয়েটে ভালো ফলাফল অর্জনের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।

মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অপ্রয়োজনীয় কাজে সময় নষ্ট না করার পরামর্শ দিয়ে ফরহাদ বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজনে অনেক কিছু থেকেই নিজেকে দূরে রাখতে হবে। পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখতে ‘ডিপ ফোকাস’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া শুধু বই খুলে বসলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। কখন কী পড়তে হবে এবং কোন অধ্যায় কখন শেষ করতে হবে—সেটি আগে থেকেই পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তিনি শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে পড়াশোনার পরামর্শ দেন। ২০, ৩০ কিংবা ৫০ মিনিটের ফোকাস সেশনে পড়লে মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পড়ার সময় অন্য কোনো চিন্তা মাথায় এলে তাৎক্ষণিকভাবে সেই কাজে ব্যস্ত না হয়ে কাগজে লিখে রাখার পরামর্শ দেন ডাকসু জিএস। এতে মনোযোগ নষ্ট না করে নির্ধারিত পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিকূলতাকে শক্তিতে পরিণত করার আহ্বান

শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশের প্রতিও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ফরহাদ বলেন, সম্ভব হলে এমন জায়গায় পড়াশোনা করা উচিত, যেখানে বাইরের কোনো বিষয় সহজে মনোযোগ নষ্ট করতে না পারে। শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘থিংক গ্লোবালি, অ্যাক্ট লোকালি।’ অর্থাৎ নিজের অবস্থান থেকে কাজ করলেও চিন্তা ও লক্ষ্য হতে হবে বিশ্বমানের। তিনি আরও বলেন, পরিবারের আর্থিক সংকট কিংবা বাবা কৃষক বা রিকশাচালক—এ ধরনের কোনো পরিচয়ই সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না। বরং জীবনের প্রতিকূলতাকে শক্তিতে পরিণত করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবনে একজন আদর্শ ব্যক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ফরহাদ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, জীবনের সংকট ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ নিজেকে আরও শক্তভাবে গড়ে তুলতে পারে। অনুষ্ঠানে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আবুল হাসান এবং ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম জেলা পশ্চিমের অফিস সম্পাদক সারতাজ আরেফিন ফাহিম। এ ছাড়া আনোয়ারা উপজেলার তত্ত্বাবধায়ক শোয়াইবুল ইসলাম মোরশেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিবুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *