মনপুরায় চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে সুশীলনের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ

মো. আব্দুল গফুর সিকদার:

ভোলার মনপুরায় চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসদের নিয়ে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউনিসেফের সহায়তায় সুশীলন বাস্তবায়িত ‘মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীর কল্যাণে সামাজিক ও আচরণ পরিবর্তন’ প্রকল্পের আওতায় ২৬ ও ২৭ আগস্ট এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

মনপুরা উপজেলার বাধেরহাট যুব ক্লাবের মিটিং রুমে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে মনপুরা ও হাজিরহাট ইউনিয়ন থেকে সুশীলনের তালিকাভুক্ত চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা অংশ নেন।

প্রশিক্ষণে জনসম্পৃক্ততা, সামাজিক জবাবদিহিতা, মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পুষ্টি, নিরাপদ মাতৃত্ব, নবজাতকের যত্ন, শিশুর টিকাদান এবং প্রয়োজনীয় সময়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণে ইতিবাচক অভিভাবকত্ব (Positive Parenting) বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আচরণ, তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা, বয়স ও সক্ষমতা অনুযায়ী মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং শারীরিক ও মানসিক শাস্তি পরিহারের বিষয়ে অভিভাবকদের ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য পরিবারে নিরাপদ, সহায়ক ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ তৈরির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

এ ছাড়া মা, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কল্যাণে পরিবার, কমিউনিটি, জনপ্রতিনিধি এবং সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যমান স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবার সঙ্গে পরিবার ও কমিউনিটির কার্যকর সংযোগ স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে একটি করে Parent Education Package দেওয়া হয়। আয়োজকদের মতে, এসব শিক্ষা ও সহায়ক উপকরণ প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান নিজ পরিবারে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্য পরিবারগুলোর মধ্যেও স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিশু সুরক্ষা ও ইতিবাচক অভিভাবকত্বের বার্তা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. সজীব রহমান। প্রশিক্ষণ সঞ্চালনা করেন মনপুরা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রজেক্ট অফিসার মো. মাজেদ আলী মল্লিক।

আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনকারী চ্যাম্পিয়ন প্যারেন্টসরা নিজ নিজ পরিবার ও কমিউনিটিতে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিশু সুরক্ষা, ইতিবাচক অভিভাবকত্ব এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা গ্রহণে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখবেন। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা ও সামাজিক জবাবদিহিতা জোরদারেও তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, শিশুর সুস্থ বিকাশ, মায়ের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবারে ইতিবাচক অভিভাবকত্বের চর্চা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *