টাঙ্গাইল-৬ আসনকে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত করে তুলবো: মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া

লাবলু মিয়া:

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে মাঠে নেমেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া। পীর সাহেব চরমোনাই কর্তৃক মনোনীত এই প্রার্থী তাঁর নির্বাচনী এলাকায় শান্তি, শৃঙ্খলা ও ইনসাফ কায়েমের লক্ষ্যে ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। তাঁর প্রধান অঙ্গীকার—নির্বাচিত হলে নাগরপুর ও দেলদুয়ার উপজেলাকে সম্পূর্ণ মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তুলবেন।

যোগ্য নেতৃত্বের সন্ধানে নাগরপুর-দেলদুয়ার

টাঙ্গাইল-৬ আসনটি জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। দীর্ঘকাল ধরে এই অঞ্চলের মানুষ উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রশ্নে নানা চড়াই-উতরাই পার করেছে। এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে একজন উচ্চশিক্ষিত, পরিচ্ছন্ন ইমেজের এবং তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা মুহাম্মদ আখিনুর মিয়াকে মনোনীত করায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার হয়েছে।

মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন; তিনি একাধারে বিশিষ্ট সমাজসেবক, সফল ব্যবসায়ী এবং প্রথিতযশা শিক্ষানুরাগী। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, টাঙ্গাইল জেলা শাখার সংগ্রামী সেক্রেটারি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং মানুষের প্রতি মমত্ববোধ তাঁকে সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।

মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া বলেন, “মাদক এবং চাঁদাবাজি এই অঞ্চলের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। যুবসমাজ আজ মাদকের নীল দংশনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, আর সাধারণ ব্যবসায়ীরা চাঁদাবাজদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ। আমি কথা দিচ্ছি, হাতপাখা প্রতীক জয়ী হলে নাগরপুর-দেলদুয়ারে কোনো মাদক ব্যবসায়ী বা চাঁদাবাজের স্থান হবে না। আমরা শাসন করতে নয়, মানুষের সেবক হিসেবে পাশে থাকতে চাই।”

তিনি আরও যোগ করেন:

“পীর সাহেব চরমোনাই আমাকে এই অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর যে সুযোগ দিয়েছেন, আমি আমার শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে তার মর্যাদা রক্ষা করব। আমরা এমন এক সমাজ গড়তে চাই যেখানে রাতের আঁধারে কোনো মা-বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না।”

শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিতি

মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে টাঙ্গাইলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান থেকে শুরু করে মসজিদ-মাদ্রাসা ও সামাজিক ক্লাবগুলোর কল্যাণে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। করোনাকালীন সময় এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আজও স্থানীয়দের মুখে মুখে ফেরে। এলাকার তরুণ সমাজ তাঁকে একজন ‘রোল মডেল’ হিসেবে বিবেচনা করছে।

হাতপাখা প্রতীকের জোয়ার

নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নাগরপুর ও দেলদুয়ারের প্রতিটি ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের তোরণ ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। প্রতিদিন শত শত নেতাকর্মী নিয়ে মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। সাধারণ মানুষও তাঁকে সাদরে গ্রহণ করছেন। ভোটারদের মতে, অনেককে তো দেখা হলো, এবার একজন আল্লাহভীরু ও শিক্ষিত প্রার্থীকে সুযোগ দিতে চান তারা।

উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রূপরেখা

মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন:

  • বেকারত্ব দূরীকরণ: শিক্ষিত যুবকদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি।

  • অবকাঠামো উন্নয়ন: নাগরপুর-দেলদুয়ারের জরাজীর্ণ রাস্তাঘাট সংস্কার এবং যাতায়াত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।

  • কৃষকবান্ধব কর্মসূচি: সার, বীজ ও কৃষি উপকরণের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা।

  • ধর্মীয় মূল্যবোধ: নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রসারে কাজ করা।

তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় একজন ভোটার বলেন, “আখিনুর সাহেব একজন মার্জিত মানুষ। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে আমরা মুগ্ধ। তিনি যে মাদক ও চাঁদাবাজ মুক্ত এলাকার কথা বলছেন, সেটাই আমাদের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চাওয়া।”

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন হাতপাখাকে বিজয়ী করতে। তাদের দাবি, টাঙ্গাইল-৬ আসনে এবার নীরব বিপ্লব ঘটবে এবং মুহাম্মদ আখিনুর মিয়ার হাত ধরেই এই জনপদে ইনসাফ কায়েম হবে।

উপসংহারে মুহাম্মদ আখিনুর মিয়া বলেন, “আমি আপনাদেরই সন্তান। আপনাদের সুখ-দুঃখে আমি সবসময় ছিলাম এবং থাকব। আগামী নির্বাচনে হাতপাখা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাকে সেবা করার সুযোগ দিন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *