টেক্সটাইল শিল্পের আধুনিকায়নে প্রকৌশলীদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে: গৃহায়নমন্ত্রী

মোঃ আনজার শাহ

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি বস্ত্র ও তৈরি পোশাক শিল্প। রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের অবদান অনস্বীকার্য। পরিবর্তিত বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এ শিল্পকে আরও টেকসই, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তুলতে টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।

দ্যা ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস, বাংলাদেশ (আইটিইটি) আয়োজিত ২০২৬ সালের অভিষেক অনুষ্ঠানে ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, একটি আধুনিক টেক্সটাইল কারখানার উৎপাদনব্যবস্থা থেকে শুরু করে পণ্য বাজারজাতকরণ ও রপ্তানি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই দক্ষ প্রকৌশলীর প্রয়োজন। তাই টেক্সটাইল প্রকৌশলী শুধু কোনো শিল্পের কারিগরি কর্মী নন; তিনি বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
বক্তব্যের শুরুতে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস এই খাত। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা তৈরি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নেও এ খাত ভূমিকা রাখছে।
তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় নীতি ও বেসরকারি উদ্যোগের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বেসরকারি খাতের বিকাশ ও রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠায় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের আমলেও পোশাক শিল্পকে আধুনিকায়ন ও বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থানে নেওয়ার জন্য নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন বলেন, এই খাতের অগ্রযাত্রায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি টেক্সটাইল প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা পূরণে তাঁদের দক্ষতা অপরিহার্য।
বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহ আধুনিক প্রযুক্তি শিল্পের প্রচলিত কাঠামো ও উৎপাদনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনছে। একই সঙ্গে কম সম্পদ ব্যবহার করে অধিক মূল্য সৃষ্টি, জ্বালানি ও পানি সাশ্রয় এবং পরিবেশবান্ধব কারখানা পরিচালনা এখন সময়ের দাবি।

মন্ত্রী মনে করেন, এসব ক্ষেত্রে আইটিইটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংগঠনটি শুধু প্রকৌশলীদের পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে শিল্প, একাডেমিয়া ও সরকারের মধ্যে কার্যকর সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করতে পারে। এতে নতুন প্রজন্মের টেক্সটাইল প্রকৌশলীদের জন্য আধুনিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।
১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি আইটিইটির দীর্ঘদিনের অর্জনকে আরও এগিয়ে নেবে এবং নতুন প্রজন্মের জন্য একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, আজকের এই আয়োজন শুধু একটি নতুন কমিটির দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি পেশাজীবী প্রতিষ্ঠানের নতুন অঙ্গীকার, নতুন কর্মপরিকল্পনা ও নতুন সম্ভাবনার যাত্রার সূচনা। নবনির্বাচিত কমিটির সব সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি প্রত্যাশা করেন, তাঁদের নেতৃত্বে আইটিইটি আরও শক্তিশালী, আধুনিক, পেশাদার ও আন্তর্জাতিকভাবে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

বক্তব্যের শেষাংশে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সাফল্য কামনা করে সবাইকে ধন্যবাদ জানান গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *