জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৭ নেতা-কর্মীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জামিনের আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে আসামিদের আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় হামলায় রবিউল ইসলাম নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন।
মঙ্গলবার ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন এ আদেশ দেন। জামিন আবেদন নামঞ্জুরের পর আসামিদের কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
আহত পুলিশ সদস্য রবিউল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি আকস্মিকভাবে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। পরে তাঁরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় আদালত চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
যেভাবে করা হয়েছিল মামলা
মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৬ আগস্ট পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি করেন। মামলায় পীরগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. আকতারুল ইসলামসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুরা ধনীপাড়া গ্রামে আকতারুল ইসলামের বাড়িতে গোপন বৈঠক করে আসামিরা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও নাশকতার পরিকল্পনা করেন। পরে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন আলামত জব্দ করে এবং দুজনকে গ্রেপ্তার করে বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
আত্মসমর্পণের পর জামিন আবেদন
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহারভুক্ত ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার তাঁরা ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন।
শুনানি শেষে বিচারক তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের এ আদেশের পর আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা এবং পুলিশ সদস্যের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য
শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর মক্কেলরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। মামলায় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করা ফেসবুকের ছবি ও স্ক্রিনশটে সুনির্দিষ্ট তারিখ বা তথ্য নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
আইনজীবীর বক্তব্য, ছবিগুলো পুরোনো হতে পারে অথবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি কিংবা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে মামলার তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, আদালত চত্বরে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানা গেছে।