দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিএনপির একাধিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

স্টাফ রিপোর্টার  :

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ঢাকা-৫ আসনের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মোঃ নবীউল্লাহ নবী দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় মহাসচিব বরাবর একটি বিস্তারিত লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন।

অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি এবং এর অধীনস্থ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়ের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা দীর্ঘদিন ধরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে আসছেন। নির্বাচনী মাঠে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা না রেখে তারা নিরব ভূমিকা পালন করছেন, যা দলীয় প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তিনি আরও দাবি করেন, অভিযুক্ত নেতাদের একটি অংশ স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক প্রার্থীদের সঙ্গে গোপন যোগাযোগ ও সমঝোতায় জড়িত। এতে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যখন দল সারাদেশে সাংগঠনিক তৎপরতা বৃদ্ধি করছে, তখন কিছু নেতার নিষ্ক্রিয়তা এবং গোপন রাজনৈতিক যোগাযোগ দলীয় অবস্থানকে দুর্বল করে দিচ্ছে। অভিযোগকারীর মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু নির্বাচনী ক্ষতি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনের ভিত দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

অভিযুক্তদের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে—
১। মিজান ভান্ডারী, ওয়ার্ড নং-৪৮ বিএনপি নেতা
২। আনোয়ার হোসেন, সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি
৩। হানিফ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, যুবদল ডেমরা থানা
৪। জয়নাল আবেদীন রতন, সাবেক সভাপতি, ডেমরা থানা বিএনপি ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি
৫। রাইসুল হাসান হবি, সদস্য, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু নেতা দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে গোপন বৈঠক করছেন এবং স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। এমনকি তারা জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগে দাবি করা হয়।

আলহাজ্ব মোঃ নবীউল্লাহ নবী অভিযোগপত্রে আরও বলেন, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং দলীয় প্রার্থীর অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে দলীয় ঐক্য ও নির্বাচনী কার্যক্রম আরও বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

অভিযোগপত্রে তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিএনপির মতো বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠনের জন্য শৃঙ্খলা ও ঐক্যই মূল শক্তি। তাই সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *