অনলাইন ডেস্ক:
ধূমপান ফুসফুসের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং ফুসফুসের ক্যানসারের অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ। তবে ধূমপান ছেড়ে দিলেই কি ক্যানসারের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়? সহজ উত্তর—না। তবে ধূমপান বন্ধ করার পর থেকেই শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে ফুসফুসের ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ভারতের টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের মেডিক্যাল অনকোলজির অধ্যাপক ও সলিড টিউমার ইউনিটের প্রধান এবং হোমি ভাবা ক্যানসার ইনস্টিটিউট, মুজাফফরপুরের পরিচালক ডা. কুমার প্রভাশ।
বিশেষজ্ঞের মতে, ধূমপান ছাড়ার উপকার পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না। ধূমপান বন্ধ করার পরপরই শরীরে বিভিন্ন ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হয়।
ধূমপান ছাড়ার প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে রক্তে কার্বন মনোক্সাইডের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসতে পারে। এরপর কয়েক সপ্তাহ ও কয়েক মাসের মধ্যে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে উন্নত হতে শুরু করে। একই সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গও কমতে পারে।
ডা. প্রভাশের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কেউ ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার ১০ বছর পর ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি ধূমপান চালিয়ে যাওয়া ব্যক্তির তুলনায় প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ কমতে পারে।
অর্থাৎ, ধূমপান ছাড়ার সুফল শুধু তাৎক্ষণিক শারীরিক পরিবর্তনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দীর্ঘমেয়াদেও এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে।
ধূমপান ছাড়লে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তবে সাবেক ধূমপায়ীর ঝুঁকি সবসময় এমন একজন ব্যক্তির পর্যায়ে নেমে আসবে, যিনি কখনো ধূমপান করেননি—এমন নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষজ্ঞের মতে, ধূমপান ছাড়ার পরও সাবেক ধূমপায়ীদের ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কখনো ধূমপান না করা ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে এ ঝুঁকি সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। অতীতে কত বছর ধূমপান করা হয়েছে, প্রতিদিন কত পরিমাণে ধূমপান করা হয়েছে এবং কী ধরনের তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করা হয়েছে—এসব বিষয় ঝুঁকির মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
সহজভাবে বললে, ধূমপান ছাড়লে অতীতে হওয়া সব ক্ষতি একবারে মুছে যায় না। তবে নতুন করে ক্ষতির মাত্রা কমে এবং শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
ধূমপান বন্ধ করার সুফল শুধু ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ধূমপান ছাড়লে বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকিও কমতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে—
- ফুসফুসের ক্যানসার
- লিভারের ক্যানসার
- অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার
- মূত্রথলির ক্যানসার
- কিডনির ক্যানসার
- পাকস্থলীর ক্যানসার
- কোলোরেক্টাল বা বৃহদান্ত্র ও মলাশয়ের ক্যানসার
ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসা রোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে রোগীর পরিস্থিতি অনুযায়ী অস্ত্রোপচার, রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি কিংবা ইমিউনোথেরাপি এককভাবে অথবা একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে ব্যবহার করা হতে পারে।
এ ছাড়া নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টিউমারের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া সম্ভব হচ্ছে। এসব তথ্য নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কোন চিকিৎসা পদ্ধতি বেশি উপযোগী হতে পারে, তা নির্ধারণে চিকিৎসকদের সহায়তা করতে পারে।
ধূমপান বন্ধ করার পর থেকেই শরীরে এর ইতিবাচক প্রভাব শুরু হয় এবং সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি কমতে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধূমপান করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি পুরোপুরি কখনো ধূমপান না করা মানুষের পর্যায়ে নাও নামতে পারে।
তাই ধূমপান বন্ধ করার পাশাপাশি অতীতে ধূমপানের অভ্যাস, বয়স ও অন্যান্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং উপযুক্ত স্ক্রিনিং করানো গুরুত্বপূর্ণ।