নয় নম্বর ওয়ার্ডকে একটি মডেল ওয়ার্ড হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : শেখ আলমগীর 

(রতনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর উন্নয়ন-সংকল্প; দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান)

মোঃআনজার শাহ

“জনপ্রতিনিধিদের মূল দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত করা। দল-মত ও ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি অবহেলিত এলাকাকেও পরিকল্পিত ও উন্নত জনপদে পরিণত করা সম্ভব।” সাতক্ষীরা কালীগঞ্জে ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শেখ আলমগীর হোসেনের কণ্ঠে এভাবেই উচ্চারিত হয়েছে এক নতুন ধরনের গণপ্রতিনিধিত্বের স্বপ্ন।
তিনি বলেন, “নয় নম্বর ওয়ার্ডে আমি পাস করি কিংবা ফেল করি, আল্লাহই জানেন; কিন্তু এই ওয়ার্ডকে আমি সাজিয়ে দিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।”

সম্প্রতি স্থানীয় একটি সভায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যে এলাকার দীর্ঘদিনের উন্নয়ন-সংকট, সড়ক সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের কল্যাণে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার নানা দিক উঠে আসে।

শেখ আলমগীর হোসেন বলেন, তিনি কোনো বিত্তশালী পরিবারে জন্ম নেননি; দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছেন। তাই সাধারণ মানুষের কষ্ট ও প্রয়োজন তিনি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই উপলব্ধি করেন। তাঁর ভাষ্য, “আমি রতনপুরে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করিনি। কষ্ট ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আজকের এই পর্যায়ে এসেছি। কিন্তু আমার অতীত আমি ভুলিনি।”

তিনি জানান, ২০২১ সাল থেকে রতনপুর ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের সম্পৃক্ততা শুরু হয়। এরপর বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, কোরআন শিক্ষা কার্যক্রম, অসুস্থ মানুষসহ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। এসব কর্মকাণ্ড কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নয় নম্বর ওয়ার্ডের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনারা তিন-চারজন মিলে একটি কমিটি করুন। আমাকে সেই কমিটিতে রাখুন। আপনারা আমার সঙ্গে চলুন। এমপি সাহেবের কাছে গিয়ে এলাকার সমস্যাগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরব। কোন রাস্তার কী সমস্যা, কোথায় কী প্রয়োজন সবকিছুর একটি পরিকল্পিত তালিকা তৈরি করতে হবে।”
শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার উন্নয়ন সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে হবে।

সড়ক উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “কোনো রাস্তার উন্নয়ন করতে হলে আগে দেখতে হবে সেই রাস্তার আইডি আছে কি না। যেসব রাস্তার আইডি নেই, সেগুলোর আইডি করার উদ্যোগ নিতে হবে। প্রয়োজনে প্রকৌশল দপ্তর থেকে লোক এনে রাস্তার পরিস্থিতি যাচাই করব।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।

জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে শেখ আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি চাই উন্নয়নের প্রতিটি টাকা মানুষের কাজে ব্যয় হোক। জনগণের অর্থ জনগণের উন্নয়নেই ব্যবহার করতে হবে।” একই সঙ্গে তিনি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁর মতে, শুধু নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে গেলে হবে না; নির্বাচনের পরও জনগণের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হবে। এ জন্য প্রতি মাসে একটি কমিটির মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনার প্রস্তাব দেন তিনি। “আমরা প্রতি মাসে বসব। কতটুকু কাজ এগোল, কোথায় সমস্যা হলো, কীভাবে আরও এগিয়ে যাওয়া যায় এসব নিয়ে আলোচনা করব। এলাকার উন্নয়নের জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে স্থানীয় উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান শেখ আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, প্রত্যেকের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে; কিন্তু এলাকার উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থের প্রশ্নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রতনপুর ইউনিয়নে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “মানুষ আল্লাহর সৃষ্টি। মানুষের সেবা করাই সবচেয়ে বড় ধর্ম। আমরা একে অপরের সঙ্গে মিলেমিশে চলব, ইনশাআল্লাহ।”
সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতায় পাশে থাকার আশ্বাসও দেন তিনি। একই সঙ্গে কোনো অন্যায়, জুলুম বা অবিচারের সঙ্গে আপস না করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেখ আলমগীর বলেন, “কেউ যদি অন্যায় করে, অন্যায়কারীর সঙ্গে আমি নেই। কেউ জুলুম করলে জুলুমের সঙ্গে আমি নেই। অন্যায়কারী যে-ই হোক, তার অন্যায়ের সমর্থন আমি করব না।”
নিজের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মানুষের বিপদে পাশে থাকার চেষ্টা অতীতেও করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। এলাকার কোনো মানুষ বিপদে পড়লে দল-মত নির্বিশেষে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।

বক্তব্যের শেষ দিকে শেখ আলমগীর হোসেন বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় আল্লাহর ইচ্ছার বিষয়; তবে মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয় থেকে তিনি সরে যাবেন না। “আল্লাহ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। এখন আপনাদের কাছে দোয়া চাই আল্লাহ যেন আমাকে মানুষের সেবা করার তাওফিক দেন,” বলে তিনি উপস্থিত সবার প্রতি সালাম জানান।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত উদ্যোগ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে ১১ নম্বর রতনপুর ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডকে একটি উন্নত, শিক্ষাবান্ধব ও সুন্দর জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *