স্টাফ রিপোর্টার :
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে এক নরপশুর যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে মাত্র আট বছর বয়সী দ্বিতীয় শ্রেণির এক নিষ্পাপ শিশু। ঘটনাটি ঘটেছে ১০নং উত্তরশীল ইউনিয়নের মুড়ি চেয়ারম্যান অফিসের সামনে অবস্থিত একটি মুদি দোকানে। অভিযুক্ত দোকানির নাম ওদুদ মিয়া।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির গ্রামের বাড়ি জয়কামতায়। বাবা মহিউদ্দিন ও মা সালেহা বেগমের আদরের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার কিছুদিন আগে নানার বাড়িতে বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে সুমাইয়া তার বেশ কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে দোকানটিতে যায়। এই সুযোগে দোকানি ওদুদ মিয়া কৌশলে অন্য শিশুদের দোকান থেকে সরিয়ে দেয় এবং একা পেয়ে সুমাইয়ার পোশাক খুলে তার সঙ্গে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে।
তবে দূর থেকে বিষয়টি দেখে ফেলে সুমাইয়ার সহপাঠীরা। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে অভিভাবকদের কাছে ঘটনার বিবরণ দিলে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সুমাইয়ার খালা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “মেয়েটা নানার বাড়িতে আনন্দ করতে এসেছিল। সে মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে — একটা ছোট্ট নিষ্পাপ শিশু। এই পশুটা তার সেই নিরীহ শৈশবকে কলুষিত করতে চেয়েছে। আমরা অভিযুক্তের সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন একটি দোকানে দিনের আলোয় এভাবে শিশু নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে নিরাপত্তা কোথায়?
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী প্রশাসনের কাছে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শিশু সুরক্ষা আইন ২০১৩ ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী শিশুর প্রতি যৌন নিপীড়নের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনুন।