নারায়ণগঞ্জে এবার বসবে ২৩টি পশুর হাট

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এলাকায় এবার ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নগরের যানজট ও জনভোগান্তি এড়াতে শহরের ভেতরে কোনো হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নাসিক কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা নিতে দরপত্র আহ্বান করে সিটি কর্পোরেশন। একই সঙ্গে ২৩টি হাটের সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করা হয়।

নাসিক সূত্রে জানা যায়, গত বছর সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে ২২টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তা বাড়িয়ে ২৩টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার সর্বোচ্চ দর নির্ধারিত হয়েছে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকার একটি হাটে, যেখানে গত বছরের হিসেবে কাঙ্ক্ষিত দর ছিল প্রায় ২৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে তালিকায় সর্বনিম্ন দর আড়াই লাখ টাকার হাটও রয়েছে।

নাসিকের তালিকাভুক্ত হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ওয়ার্ডের খালি জায়গা, মাঠ, বালুর মাঠ, মিল সংলগ্ন খোলা জায়গা এবং সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন এলাকা। এসব স্থানে স্থানীয় ইজারাদারদের মাধ্যমে হাট পরিচালনা করা হবে।

তালিকাভুক্ত হাটগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
৩ নম্বর ওয়ার্ডের সানারপাড় লিপি গার্মেন্টস সংলগ্ন মৌলভী ফজলুর রহমানের খালি জায়গা ও মৌচাক মাদানী নগর বালুর মাঠ, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলের মাঠ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাইলো রোড সংলগ্ন মোহর চান কন্ট্রাক্টরের খালি জায়গা ও বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের এসও রোড টার্মিনাল সংলগ্ন সালাউদ্দিন সাহেবের খালি জায়গা, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাভানা সিটির ১ নম্বর মাঠ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোদনাইল ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলসের খালি মাঠ।

এছাড়া ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি এলাকায় তিনটি আলাদা হাট, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ডিয়ারার মাঠ, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচ ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকা, ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকান্দা মাঠ ও ফরাজীকান্দা বালুর মাঠ, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জহির কাজীর খালি জায়গা, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কদমরসুল ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন এলাকা, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ গুদারাঘাট ও আলতাফ সাহেবের খালি জায়গা, ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লক্ষ্মণখোলা খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকা এবং ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মুরাদপুর এলাকার বালুর মাঠ রয়েছে।

নাসিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাটগুলোতে নিরাপত্তা, যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আলাদা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোনো অবৈধ হাট বসানো হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, শহরের ভেতরে হাট না থাকায় যানজট কিছুটা কমবে, তবে নির্ধারিত হাটগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে ঈদ মৌসুমে ভোগান্তির আশঙ্কা থেকেই যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *