নারায়ণগঞ্জের শ্রেষ্ঠ অফিসার হিসেবে বিশেষ পুরস্কার পেলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী

নুরুজ্জামান সাউদ:

পেশাগত দক্ষতা, অনুকরণীয় সাহসিকতা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নারায়ণগঞ্জের শ্রেষ্ঠ কর্মকর্তার বিশেষ পুরস্কার লাভ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জনাব তারেক আল মেহেদী।

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (বুধবার) অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও পেশাদারিত্বের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভায় তাঁর হাতে এই সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। দিনব্যাপী আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান।

উক্ত কল্যাণ সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ অবদান রাখার জন্য জনাব তারেক আল মেহেদী ছাড়াও বন্দর থানার ওসি মো. জামাল উদ্দিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (খ-সার্কেল) জনাব দীপংকর ঘোষকেও বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের চৌকস পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সিআইডি, পিবিআই এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু সাফল্য হলো—

বুলবুল হত্যা মামলা: বন্দর থানা এলাকায় ইসলামী আন্দোলনের কর্মী বুলবুল হত্যা মামলার মতো একটি চাঞ্চল্যকর ও ক্লুলেস ঘটনার মূল রহস্য তাঁর দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সফলভাবে উদঘাটিত হয়। তাঁর সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপে পুলিশ মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত সন্ত্রাসী শেখ সিফাতসহ ১১ জন আসামিকে দেশীয় অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। উল্লেখ্য, দুর্ধর্ষ এই প্রধান আসামির বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ১৪টি মামলা রয়েছে।

সজীব হত্যা মামলা: গত ২৪ আগস্ট রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন গোদনাইল ধনকুন্ডা ক্যানেলপাড় এলাকায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় মো. সজীবকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীর সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপের ফলে পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারভুক্ত প্রধান আসামি মাইকেল ও তাঁর ছেলে আপনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

জেলাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নতি, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদীর এই ধারাবাহিক সাফল্য সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আস্থা আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং জেলা পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। তাঁর এই অর্জন জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদেরও দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *