নিখোঁজের পর শিশুদের মরদেহ উদ্ধারে আসকের উদ্বেগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাম্প্রতিক সময়ে শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ উদ্ধার, ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় শিশুদের জীবন ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।

রোববার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এ উদ্বেগ প্রকাশ করে। কুমিল্লায় ১৩ বছর বয়সী শিশু ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমসহ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হয়ে নিহত শিশুদের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আসকের সংগৃহীত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ২৫৪ শিশুর মৃত্যুর তথ্যও সংগঠনটির পর্যবেক্ষণে এসেছে।

অন্যদিকে পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৭১৭ শিশুর নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে ২ হাজার ৩৮ শিশু।

তবে নিখোঁজের তথ্য পরবর্তী সময়ে হালনাগাদ না হওয়ায় এসব পরিসংখ্যানে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিবৃতিতে আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান বলেন, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হলে ঘটনাটিকে শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। শিশুটি কীভাবে নিখোঁজ হলো, তাকে উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল, কোনো অবহেলা বা সমন্বয়হীনতা ছিল কি না এবং অপরাধের সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের আওতায় আনতে হবে।

আসক বলেছে, শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সংবিধান, জাতীয় শিশু নীতি, শিশু আইন এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী এ দায়িত্ব পালনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

নিখোঁজ শিশুদের বিষয়ে একটি সমন্বিত ও নিয়মিত হালনাগাদ জাতীয় তথ্যব্যবস্থা গড়ে তোলারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এমন তথ্যব্যবস্থা থাকলে নিখোঁজ, উদ্ধার এবং এখনো নিখোঁজ শিশুদের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিশু নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকির ধরন চিহ্নিত করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়াও সহজ হবে।

সংগঠনটি ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমসহ সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ হয়ে নিহত শিশুদের প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আসক।

নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে দায়িত্ব পালনে কোনো গাফিলতি বা অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আসকের মতে, কোনো শিশু নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিক পরিস্থিতি নয়। শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দ্রুত ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *