পরকীয়ার জেরে স্ত্রী কর্তৃক বিষ প্রয়োগে হত্যা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ১নং বাইশগাঁও ইউনিয়ন, ৬ নং ওয়ার্ড লাচরা গ্রামস্থ ভূঁইয়া বাড়ির মৃত আব্দুল বাতেন ও তাহেরা খাতুনের ছেলে (প্রবাস ফেরত) সুমন হোসাইন (২৮) এর সাথে প্রায় ১২ বছর পূর্বে মনোহরগঞ্জ থানাধীন গাজীাপাড়া এলাকার আবু সায়েদ ও জান্নাতুল ফেরদৌসের কন্যা মোছাম্মৎ হালিমা আক্তারের সাথে সুমনের ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়।

দাম্পত্য জীবনে সুমন ও হালিমা খাতুনের দুইটি সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে। বড় সন্তান জামিলা আক্তার, বয়স (৯) বছর এবং ছোট সন্তান ওসমান গনি, বয়স (৫) বছর। সুমন হোসাইন সৌদি আরবে চাকরি করার কারণে প্রবাসে থাকতেন। হালিমা আক্তার স্বামী প্রবাসে থাকায় একই এলাকার আলাউদ্দিন (৩৩)-এর সাথে অবৈধ সম্পর্ক (পরকীয়া) জড়িয়ে পড়েন। এরই মধ্যে হালিমা আক্তার ও তার পরকীয়া প্রেমিক লাকসাম এলাকায় অবৈধভাবে একত্রে বসবাস শুরু করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে সুমন হোসাইন গত ১৮-০২-২০২৬ ইং তারিখে দেশে ফেরেন।

দেশে ফেরার পর সুমন ও হালিমা একত্রে বসবাস করছিলেন। গত ০১-০৩-২০২৬ ইং ভোরে হালিমা পরকীয়া সম্পর্ক মজবুত করতে পুনরায় আলাউদ্দিনের নিকট পালিয়ে যান এবং স্বামী সুমনকে তালাকের নোটিশ প্রদান করেন। গত ০৫-০৩-২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় হালিমা সুমনের সংসারে ফিরে আসলে, হালিমার নিকট তালাকের নোটিশের বিষয়ে জানতে চাইলে ঐ দিন রাতেই হালিমা আবার পালিয়ে গিয়ে পরকীয়া প্রেমিক আলাউদ্দিনের নিকট আশ্রয় নেয়। অতঃপর উভয়ের আত্মীয়-স্বজনের মধ্যস্থতায় ৩১-০৩-২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় শরিয়ত মোতাবেক কাবিন করে উভয়ে সংসার জীবন শুরু করে।

গত ০৭-০৪-২০২৬ ইং তারিখে হালিমা তার নিজ বোনের বাড়ির কথা বলে আবার পরকীয়া প্রেমিক আলাউদ্দিনের নিকট চলে যায় এবং ১২-০৪-২০২৬ ইং তারিখে পুনরায় স্বামীর সংসারে ফিরে আসে। ১৩-০৪-২০২৬ তারিখে সুমন সর্দি জ্বরে আক্রান্ত হলে ১৪-০৪-২০২৬ ইং তারিখে হালিমার বোন মরিয়ম ঔষধপত্র নিয়ে সুমনকে দেখতে যায়। গত ১৫-০৪-২০২৬ ইং সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকায় সুমনের স্ত্রী সুমনকে ঔষধের সাথে বিষ মিশিয়ে পান করান। বিষ পানের যন্ত্রণায় সুমন চিৎকার শুরু করলে, ততক্ষণে সুমনের বোন আসমা ও গিয়াসউদ্দিন মোজ্জামেল তাকে প্রথমে মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে উপস্থিত ডাক্তার সুমনকে পরীক্ষা করে জানান, সুমনকে কীটনাশক খাওয়ানো হয়েছে।

বিষয়টি অবগত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য সুমনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে গত ১৭-০৪-২০২৬ ইং তারিখে সুমনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেলে ভর্তির একদিন পর কাউকে কিছু না জানিয়ে হালিমা কৌশলে অন্যত্র পালিয়ে যান এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখেন। গত ২৪-০৪-২০২৬ ইং তারিখ আনুমানিক রাত ২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন মারা যান। সুমনের মৃত্যুর একদিন পূর্বে ২৩-০৪-২০২৬ ইং তারিখে তিনি মৃত্যুকালীন জবানবন্দি প্রদান করেন।

সুমনের মৃত্যুর পর শাহবাগ থানার এসআই লাবলু আহমেদ বিষয়টি নিয়ে শাহবাগ থানায় জিডি করেন। জিডি নং ১৬৩০, তারিখ ২৪-০৪-২০২৬ ইং। ঢাকা মেডিকেলের তথ্য অনুযায়ী, সুমনকে পরিকল্পিতভাবে বিষপানে হত্যা করা হয়। বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এ ব্যাপারে মনোহরগঞ্জ থানায় মামলা রুজু হয়েছে। মনোহরগঞ্জ থানার মামলার নম্বর ০৪, তারিখ ০২-০৫-২০২৬ ইংরেজি। এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *