প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশন নিয়ে ছাত্রশিবিরের প্রশ্ন, চায় সুনির্দিষ্ট নীতিমালা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক:

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের ভেরিফিকেশনের নামে বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

একই সঙ্গে ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রার্থী বাদ দেওয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব দাবি জানান।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্ত ফলাফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে ভেরিফিকেশন শেষে বিভিন্ন জেলার অনেক সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫-এর আন্দোলনকারীদের প্ল্যাটফর্মের বরাত দিয়ে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ১২ শতাধিক প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি। বাদ পড়া অনেক প্রার্থীর দাবি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অপরাধের রেকর্ড নেই এবং বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণও তাদের জানানো হয়নি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভেরিফিকেশনের নামে রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নিয়ে কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার অভিযোগ উদ্বেগজনক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি ও ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকলে কিংবা পরিবারের কেউ জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে প্রার্থীদের নিয়োগ আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বলেও দাবি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো সরকারি তদন্ত, প্রজ্ঞাপন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ছাত্রশিবিরের নেতারা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিচারবিভাগ, মাঠ প্রশাসন ও সচিবালয়সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ করা হচ্ছে। সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতার কথা উল্লেখ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, সুস্পষ্ট কারণ না দেখিয়ে মেধাবী তরুণদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়া বৈষম্যের বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

তাদের ভাষ্য, ভেরিফিকেশন একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া হলেও একজন প্রার্থীকে কোন সুনির্দিষ্ট কারণে বাদ দেওয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। বর্তমানে ভেরিফিকেশনে কী যাচাই করা হবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় একজন প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

ছাত্রশিবিরের নেতারা ভেরিফিকেশনের পর কোনো প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ জানানো, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ এবং আপিলের ব্যবস্থা রেখে ভেরিফিকেশন পদ্ধতি পুনর্গঠনের দাবি জানান। একই সঙ্গে মেধা, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

বিবৃতিতে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দিয়ে দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা, ভেরিফিকেশনের নামে বৈষম্যমূলকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ থাকা প্রার্থীদের বিষয় পুনঃযাচাই এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নিয়োগ বাতিলের অভিযোগ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *