ফরিদপুরে গৃহবধূ হত্যা মামলায় স্বামী-শাশুড়ির যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে গৃহবধূ সুমি হত্যা মামলায় তার স্বামী ও শাশুড়িকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ বদিউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) চৌধুরী জাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন বোয়ালমারী উপজেলার কেশরাইল গ্রামের আতিয়ার রহমান তালুকদার (২৮) ও তার মা রাহেলা বেগম (৫০)। একই মামলায় আতিয়ারের বাবা খলিলুর রহমান তালুকদার (৫৫)কে খালাস দিয়েছেন আদালত।

মামলার এজাহার ও নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে কেশরাইল গ্রামের সুমির সঙ্গে আতিয়ার রহমান তালুকদারের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় সুমিকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা দেওয়া হয়েছিল।

নিহত সুমির ভাই ও মামলার বাদী মো. সরোয়ার মোল্যা এজাহারে অভিযোগ করেন, বিয়ের পর সুমি অন্তঃসত্ত্বা হলে তার স্বামী ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। এরপর থেকে স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরের বিরুদ্ধে সুমিকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন এবং বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে।

পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ করেন সুমির ভাই। একপর্যায়ে সুমি ও তার স্বামীকে কেশরাইলের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে যাওয়ার পরও সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।

২০১১ সালের ১১ মে সকালে কেশরাইল মসজিদের ইমাম হাফেজ মো. আবুজার মোল্যা মোবাইল ফোনে সুমির মৃত্যুর খবর তার ভাইকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা আতিয়ারের বাড়িতে গিয়ে একটি ঘরের খাটের ওপর সুমির মরদেহ দেখতে পান।

মামলার নথিতে বাদী অভিযোগ করেন, সুমিকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ ঘরের মধ্যে রেখে দেওয়া হয়েছে। পরে এ ঘটনায় বোয়ালমারী থানায় মামলা করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি চৌধুরী জাহিদ হাসান জানান, ঘটনার সময় নিহতের স্বামী আতিয়ার রহমান পলাতক ছিলেন। তবে তার মা রাহেলা বেগম এবং বাবা খলিলুর রহমান আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, প্রায় ১৫ বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *