কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার ফিরিঙ্গি বাজারে অবস্থিত হোটেল ব্রিজ আবাসিক এবং লালদীঘির পুরোনো গির্জার পাশে অবস্থিত রয়েল হোটেলকে ঘিরে অবৈধ দেহব্যবসার অভিযোগ উঠেছে। আবাসিক হোটেলের আড়ালে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। এমনকি পুলিশ ও সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই ব্যবসা পরিচালনার দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে হোটেলসংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি একটি অনুসন্ধানী দলের সদস্যরা হোটেলগুলোতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেন। এ সময় হোটেল ম্যানেজার ও কথিত দালাল কাজলের সঙ্গে তাঁদের কথোপকথন হয় বলে জানা গেছে। কথোপকথনে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তাঁদের হোটেলে কোনো সমস্যা নেই এবং পুলিশ ও বড় বড় সাংবাদিকদের ম্যানেজ করেই ব্যবসা পরিচালনা করা হয়। ছোটখাটো কোনো সাংবাদিক এলে তাঁকে আটকে রাখার কথাও বলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানী দলের দাবি, হোটেলে যৌনকর্মী দেখতে চাইলে কর্তৃপক্ষ এক তরুণীকে হাজির করে এবং সারারাত থাকার জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করে। এ সময় কথোপকথনের মাধ্যমে কিছু তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদকে অবহিত করা হলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। এ বিষয়ে হোটেল ব্রিজ আবাসিক ও রয়েল হোটেলে অবৈধ দেহব্যবসা এবং নারী পাচারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায় বলে জানা গেছে। তবে অভিযানে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের পক্ষে কোনো কিছু পাওয়া যায়নি বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ওসি জানান, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের শূন্য সহনশীলতা রয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ফিরিঙ্গি বাজারের হোটেল ব্রিজ ও লালদীঘির পুরোনো গির্জার পাশের রয়েল হোটেলে দীর্ঘদিন ধরে আবাসিক হোটেলের আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতা ও প্রশাসনকে ম্যানেজ করার মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সচেতন মহলের মতে, নগরের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত, হোটেলগুলোর মালিকানা ও পরিচালনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা কী—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, হোটেলগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।