স্টাফ রিপোর্টার:
খুলনার ফুলতলা উপজেলার ডাউকোনা ময়না বেগম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইয়াছিন সরদার ও সদস্য মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটি সরকারি করার কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়া হলেও সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অংশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল ১১টায় ফুলতলা-খানজাহান আলী মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যালয়ের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মো. শহিদুল ইসলাম। এ সময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয় ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, খুলনার ফুলতলা উপজেলার ডাউকোনা এলাকায় ময়না বেগম অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়টি ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৭ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইয়াছিন সরদার ও সদস্য মিজানুর রহমান বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য কাজের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। কিন্তু বিপুল পরিমাণ অর্থ নেওয়ার পরও বিদ্যালয়ের দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়টি সরকারি করার প্রক্রিয়া চলছে—এমন কথা বলে সম্প্রতি ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যের পক্ষ থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে পুনরায় বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, যারা অর্থ দিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন, তাদের চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে দাবি করা হয়।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা যৌথভাবে গত ২ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), খুলনা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, একটি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়কে ঘিরে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কারণ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই বিদ্যালয়ের অর্থ ও সম্পদ সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রম ও ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্তগুলোও তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের হিসাব, অর্থ গ্রহণের প্রমাণপত্র এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজে সেই অর্থ ব্যয় করা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, অভিযোগের বিষয়ে কোনো পক্ষকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. ইয়াছিন সরদারের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোন নম্বরে (০১৩০৪৩৭৪৪৯৯) একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। অপরদিকে সদস্য মিজানুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
ফলে সভাপতি ও সদস্যের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও এলাকাবাসী দ্রুত অভিযোগের তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।