স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল:
বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদ ইউনিয়নের আটহাজার গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনায় রুনু বেগম (৬৫) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় তার পুত্রবধূ ফাতেমা বেগমকে (২৬) আটক করেছে পুলিশ। নিহতের মৃত্যুকে ঘিরে শ্বাসরোধের অভিযোগ উঠলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুনু বেগম আটহাজার গ্রামের খলিল পেশকারের স্ত্রী। আটক ফাতেমা বেগম তার ছেলে রেদওয়ান পেশকারের স্ত্রী। ফাতেমার বাবার বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পারিবারিক বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে রুনু বেগম ও ফাতেমা বেগমের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হাতাহাতির সময় রুনু বেগম ফাতেমার একটি আঙুলে কামড় দেন। পরে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এরপর রুনু বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার মৃত্যু হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে তিনি কীভাবে মারা গেছেন, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছে পুলিশ। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনু বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকেই ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিৎ চন্দ্র নাথ বলেন, বউ-শাশুড়ির ঝগড়া ও মারামারির একপর্যায়ে ফাতেমা তার শাশুড়ির গলা চেপে ধরেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে রুনু বেগমের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। ওসি আরও বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনের পারিবারিক বিরোধ, হাতাহাতির প্রকৃত পরিস্থিতি এবং রুনু বেগমের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই স্পষ্ট হবে—এটি নিছক পারিবারিক বিরোধের মধ্যে ঘটে যাওয়া মৃত্যু, নাকি এর পেছনে আরও কোনো ঘটনা রয়েছে।